Logo

জাতীয়

ভোটের আগের ও পরের কার্যক্রমের রোডম্যাপ জানাল ইসি

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৩

ভোটের আগের ও পরের কার্যক্রমের রোডম্যাপ জানাল ইসি

গ্রাফিক্স : বাংলাদেশের খবর

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের আগে ও পরে করণীয় সব কার্যক্রমের একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন পরিচালনা ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে এই রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন-সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ইসির তৈরি রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। একই দিন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হবে। পাশাপাশি ব্যালট পেপার মুদ্রণ কার্যক্রম তদারকির জন্য অফিস আদেশ জারি করা হবে।

পরদিন ২২ জানুয়ারি ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশের জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে।

রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিশেষ সভা এবং আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এসব সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করা হবে। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের নিয়োগ ২০ জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে।

আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যবেক্ষকদের অনুমোদন ও পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে। একই দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আরেকটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য বাহিনীগুলোর প্রস্তাবিত অর্থের চাহিদা যাচাই-বাছাই করবে ইসি। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি বিশেষ খামে ফলাফল পাঠানোর বিষয়ে ডাক বিভাগকে চিঠি দেওয়া হবে।

কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার জন্য ১ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে নির্বাচন কমিশন। একই দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অর্থ বরাদ্দ এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী জেলা সদরে পাঠানো হবে।

ভোটের দিন কেন্দ্রভিত্তিক ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি ও প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ করবে নির্বাচন কমিশন। ফলাফল ও সার্বিক পরিস্থিতি কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ভোটের পরদিন কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফলাফল একীভূত করে ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হবে।

ভোটগ্রহণের দুই দিন পর নির্বাচিত প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশের জন্য তথ্য বিজি প্রেসে পাঠানো হবে। তিন দিন পর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে গেজেট সংসদ সচিবালয়ে প্রেরণ করা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনি মালামাল সংরক্ষণ, জামানতের অর্থ ফেরত এবং প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে ইসি।

এ ছাড়া ভোটের ৩০ দিনের মধ্যে যেসব প্রার্থী নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব জমা দেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী সতর্কবার্তা পাঠানো হবে।

ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, এটি শুধু একটি রোডম্যাপ নয়; নির্বাচন পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতির একটি নথি। নির্ধারিত সময়ের আগেই বেশ কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দু-একটি ক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তন হলেও নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।

তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

এসআইবি/এমএইচএস 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

সংসদ নির্বাচন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর