Logo

জাতীয়

যেভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেয় নির্বাচন কমিশন

Icon

বিবিসি বাংলা

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৩

যেভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেয় নির্বাচন কমিশন

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে বুধবার। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের জন্য নিজ নিজ দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে আড়াই হাজারেরও বেশি প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে ছয় শতাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও, চার শতাধিক প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পান।

এ ছাড়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী সরে দাঁড়ান। ফলে এবারের নির্বাচনে দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সে হিসাবে গড়ে প্রতি আসনে ৬ থেকে ৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

প্রতীক বরাদ্দের পরই বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।

দলীয় প্রার্থীদের প্রতীক নির্ধারিত থাকলেও প্রতিটি আসনের সব প্রার্থীকেই আলাদাভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ইসি নির্ধারিত ৫৬টি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

স্বতন্ত্র কিংবা রাজনৈতিক দল— প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও সাবেক ইসি কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসার যে নমুনা প্রতীক দেবেন, ঠিক ওই নমুনা অনুযায়ী প্রার্থীরা প্রচারণা চালাবেন। ব্যালট পেপারেও থাকবে একই নমুনা।’

এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত আলাদাভাবে জোটবদ্ধ নির্বাচন করছে। অতীতের জোটবদ্ধ নির্বাচনে শরিক দলের প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ থাকলেও, এবার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের ফলে সব দলকে নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে।

এবারের নির্বাচনে ১১৯টি প্রতীক
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বর্তমানে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৬৩টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। এর বাইরে ১০টি নিবন্ধিত দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। 

গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে নির্বাচন কমিশন জানায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদে ৫১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

এবারের নির্বাচনের আগে নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ রেখেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ৫৬টি প্রতীক সংরক্ষিত রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য।

নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি নিবন্ধন পাওয়ার পর তাদের নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে সংকট তৈরি হয়। দলটি শাপলা প্রতীক দাবি করলেও প্রথমে ইসি তালিকায় সেটি অন্তর্ভুক্ত করেনি। পরে শাপলার পরিবর্তে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক তালিকায় যুক্ত করে ১১৯টি প্রতীকের গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপর এনসিপিকে শাপলা কলি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বিএনপির ধানের শীষ, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির লাঙল, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখাসহ এমন অনেক প্রতীক রয়েছে, যেগুলো এখনো কোনো রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

এই ৫৬টি অব্যবহৃত প্রতীক স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন।

চাঁদপুরের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নির্ধারিত প্রতীকের বাইরে ৫৬টি প্রতীক রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য। এগুলোই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

এর আগে নির্বাচন কমিশনের প্রতীক তালিকায় উটপাখি, কলা, খাট, চার্জার লাইট, টিফিন ক্যারিয়ার, তবলা, তরমুজ, ফুলের টব, ফ্রিজ, বাঁশি, বেঞ্চ, বেগুন, লাউ, শঙ্খ ও স্যুটকেসের মতো প্রতীক থাকলেও এবারের নির্বাচনের আগে সেগুলো বাদ দেওয়া হয়।

নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ২০টি প্রতীক। সেগুলো হলো— উট, চিরুনি, টর্চলাইট, টেবিল ল্যাম্প, ট্রাক্টর, ড্রেসিং টেবিল, তালা, দোতলা বাস, পাগড়ি, পানির ট্যাপ, পালকি, ফলের ঝুড়ি, বেবি ট্যাক্সি, বৈদ্যুতিক বাল্ব, মোটরসাইকেল, রেল ইঞ্জিন, সিঁড়ি, সূর্যমুখী ও হ্যান্ডশেক।

দলীয় প্রার্থীরাও পাবেন নমুনা প্রতীক
নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত মনোনয়ন ফরমের ভিত্তিতে দলীয় প্রার্থীদের স্ব স্ব দলের নির্ধারিত প্রতীক দেওয়া হয়।

যেমন বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা দাঁড়িপাল্লা, এনসিপির প্রার্থীরা শাপলা কলি এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা লাঙল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

তবে দলীয় প্রতীক নির্ধারিত থাকলেও প্রতিটি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আলাদাভাবে সব প্রার্থীকে স্বাক্ষরিত প্রতীক বরাদ্দ দেন।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেন, ‘দলীয় প্রতীক নির্দিষ্ট থাকলেও স্বাক্ষরিত নমুনা প্রতীক দেওয়া হয়, যাতে প্রার্থীরা ইসির সরবরাহ করা আদল অনুযায়ী প্রচারণা চালান।’

নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ধরুন কোনো দলের প্রতীক বাইসাইকেল। ব্যালটে বাইসাইকেলের যে নমুনা থাকবে, ঠিক সেই আদলেই প্রচারণা চালাতে হবে। নিজের মতো করে ছবি ব্যবহার করলে ব্যালটের সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে।’

‘এ কারণেই প্রত্যেক প্রার্থীকে ইসির সরবরাহ করা স্বাক্ষরিত নমুনা প্রতীক দেওয়া হয়, যাতে ভোটাররা বিভ্রান্ত না হন,’ বলেন তিনি।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে লটারি
এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় দুই হাজার প্রার্থীর মধ্যে বড় একটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী।

রাজনৈতিক দলগুলো নিবন্ধনের সময়ই প্রতীক পেয়ে থাকে। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত নিশ্চিত থাকতে পারেন না।

আইন অনুযায়ী, দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট প্রতীকগুলো থেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা যতটা সম্ভব প্রার্থীর পছন্দ বিবেচনায় নেন। 

একই প্রতীক একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী চাইলে প্রথমে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। সমঝোতা না হলে লটারির মাধ্যমে প্রতীক নির্ধারণ করা হয়। তবে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী আগে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে, তার পছন্দের প্রতীক অগ্রাধিকার পায়— যদি সেটি আগেই কাউকে দেওয়া না হয়ে থাকে।

প্রতীক নির্ধারণের পর ইসির সরবরাহ করা প্রতীকের নমুনা থেকে কেটে তাতে স্বাক্ষর করে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের কাছে তা হস্তান্তর করেন।

এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

সংসদ নির্বাচন নির্বাচন কমিশন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর