বাংলাদেশকে নিয়ে অপতথ্যের জাল- ভারতের ৭৩ সংবাদমাধ্যমে ১৪০টি বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৮
বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে ভারতীয় উৎস থেকে ছড়ানো অপতথ্যের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানারের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০২৫ সালে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ে অন্তত ১৫৫টি অপতথ্য ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, ভারতের মূলধারার অন্তত ৭৩টি সংবাদমাধ্যম এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ৩৮টি ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় মোট ১৪০টি ভুল ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ ৩৪টি অপতথ্য ছড়ানো হয়। অপপ্রচারের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার), যেখানে মোট অপতথ্যের প্রায় ৮১ শতাংশ বা ১২৬টি তথ্য প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া ফেসবুক, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামেও অপতথ্যের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো অপতথ্যের প্রকৃতি। শনাক্ত হওয়া ১৫৫টি মিথ্যে তথ্যের মধ্যে ৯১টিই ছিল সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক, যা মোট অপতথ্যের প্রায় ৫৮ শতাংশ। ভারতীয় মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো অন্তত ১০টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক অপতথ্য প্রচার করেছে। এর মধ্যে এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, জি নিউজ এবং ইন্ডিয়া টুডের মতো প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের নামও উঠে এসেছে। পরিসংখ্যানে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ‘আজতক বাংলা’, যারা ১০টি ভিন্ন ঘটনায় ভুল তথ্য প্রচার করেছে।
অপপ্রচারের কৌশল হিসেবে অনেক ক্ষেত্রে কোনো মুসলিম ব্যক্তি আক্রান্ত হলে তাকে হিন্দু হিসেবে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকার মিটফোর্ডের ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে অন্তত ২৭টি ভারতীয় গণমাধ্যম সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, যদিও তিনি হিন্দু ছিলেন না। এছাড়া পুরনো কোনো ভিডিও বা স্ক্রিপ্টেড নাটককে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও রিউমার স্ক্যানারের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে। অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা মনে করছেন, এই সুপরিকল্পিত অপতৎপরতা জনমনে বিভ্রান্তি ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
ডিআর/এনএম

