নিবন্ধন বহাল থাকা সব দলের সমান সুযোগ : জাপা বিষয়ে ইসি মাছউদ
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৮
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। ছবি : বাংলাদেশের খবর
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, যেসব রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বহাল আছে, তাদের সবার জন্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ রয়েছে। আইনি কোনো বাধা না থাকলে যেকোনো দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে এবং কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি। জাতীয় পার্টিকে (জাপা) নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবির প্রেক্ষিতে কমিশন এই অবস্থান পরিষ্কার করে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার মাছউদ এসব কথা বলেন।
নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, ঋণখেলাপি সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তনের বিষয়ে কমিশন চিন্তাভাবনা করতে পারে। কমিশনের সবাই একমত হলে আমরা সুপারিশ করতে পারি যে, অল্প অঙ্কের ঋণের ক্ষেত্রে কেউ যদি কেবল জামিনদার (গ্যারান্টর) হন, তবে তাঁকে নির্বাচনে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে বড় অঙ্কের ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে ছাড় না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টের একটি রুলিং অনুযায়ী, কেবল অন্যের ঋণের গ্যারান্টর হলে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। যদিও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৪১ ধারায় ঋণখেলাপিদের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, তবে জামিনদারদের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ স্পষ্ট নয়। এছাড়া অনেক প্রার্থী আদালত থেকে স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) নিয়ে আসায় রিটার্নিং অফিসাররা আইনিভাবে তাদের বৈধ ঘোষণা করতে বাধ্য হন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি জটিলতার বিষয়ে মাছউদ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে দ্বৈত নাগরিকত্ব বৈধ হলেও সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ২০১১ সালের আইন অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকত্ব পরিত্যাগ (রিনাউন্স) করলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব।
তিনি জানান, ‘নাগরিকত্ব পরিত্যাগ’ বলতে ঠিক কী বোঝায়, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত ছিল। তবে বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের মতামত অনুযায়ী কমিশন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, কেউ যদি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে ফি প্রদান করেন, তবেই তার পরিত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। এ বিষয়ে একটি অভিন্ন সিদ্ধান্ত (ইউনিফর্ম ডিসিশন) দেওয়ার চেষ্টা করছে কমিশন।
কোনো রাজনৈতিক চাপ আছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ওপর কোনো চাপ নেই। কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে।’ ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। আপনারা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিন।’
নির্বাচন কমিশনার জানান, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফল গণনা ও ঘোষণা করা হবে। একই ব্যালট বাক্সে দুই ভিন্ন রঙের ব্যালট থাকবে। সেগুলো আলাদা করে গণনা করা সম্ভব এবং এতে কোনো বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই।
এসআইবি/এমএইচএস

