Logo

জাতীয়

সরকার স্থাপন করবে সমরাস্ত্র কারখানা

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:২৩

সরকার স্থাপন করবে সমরাস্ত্র কারখানা

ছবি: সংগৃহীত

সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা পূরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমরাস্ত্র তৈরির কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সোমবার বিকেলে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ‘বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি’র উদ্যোগে কারখানা স্থাপন করা হবে।

আশিক চৌধুরী জানান, ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ তৈরির বিষয়টি বিডার মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, “সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ স্থাপন করা হবে।”

সোমবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সভার সিদ্ধান্ত জানাতে সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সমরাস্ত্র কারখানা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার যুক্তি তুলে ধরে আশিক চৌধুরী বলেন, “বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা শিল্পে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে দেখা গেছে, হাইটেক অস্ত্রের চেয়ে গোলাবারুদ ও মৌলিক সরঞ্জামের ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

কারখানাটি মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্দকৃত ৮০০ একর জমিতে স্থাপন করা হবে। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, “বাংলাদেশ হাইটেক অস্ত্র তৈরি করবে না। যুদ্ধক্ষেত্র বা অন্যান্য প্রয়োজনে হাইটেক অস্ত্র বা যুদ্ধবিমানের সংকট তৈরি হয় না। মূলত ঘাটতি দেখা দেয় গুলি ও ট্যাংকের এক্সেলের মতো যন্ত্রাংশের। সেনাবাহিনী তাদের চাহিদা অনুযায়ী এ ধরনের অস্ত্র তৈরি করবে।”

তিনি বলেন, “একে শুধু রপ্তানির বিষয় হিসেবে নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে দেখতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সাড়ে ৬০০ একর জমি নিয়ে ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ (এফটিজেড) প্রতিষ্ঠার বিষয়েও সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আশিক মাহমুদ বলেন, ফ্রি ট্রেড জোনে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা উৎপাদন, পুনঃরপ্তানি ও কাঁচামাল সংরক্ষণ করতে পারবেন। তিনি জানান, নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি সংস্কার করা হবে।

সভায় বাংলাদেশের ছয়টি বিনিয়োগ সংস্থা একীভূত করে একটি সংস্থায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিডা, বেপজা, বেজা, বিসিক, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ।

বিডা পৌর এলাকার বাইরে বিনিয়োগের অনুমতি ও জমি বরাদ্দ দিতে পারে। তবে আইন সংশোধনের মাধ্যমে এখন থেকে সারা দেশের পৌর এলাকাতেও বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হবে। এতে বিসিকের অব্যবহৃত প্লট ও বন্ধ থাকা রাষ্ট্রীয় মিল-কারখানাগুলো বেসরকারি পর্যায়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

সরকার কুষ্টিয়ার চিনিকলের ২০০ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার পরিকল্পনাও করছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আনতে প্রবাসীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ‘ক্যাশব্যাক’ স্কিম চালু করা হবে। এফডিআই স্কিমের আওতায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মোট বিনিয়োগের ১.২৫ শতাংশ অর্থ ফেরত পাবেন।

বিদেশে বিডার এজেন্সি অফিস খোলা হবে। প্রথম দিকে চীন ও কোরিয়াতে অফিস খোলার অনুমতি দেওয়া হবে। অফিসের যাবতীয় খরচ বহন করবে এজেন্সি নেওয়া দেশের প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের বিনিয়োগে অংশীদারদের কমিশন দেওয়া হবে।

এএস/

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর