পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার সরানোর কারণ খুঁজে পাচ্ছে না সরকার
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৪০
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিক ও দূতাবাসের কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা দেখছে না অন্তর্বর্তী সরকার। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এটি ভারতের একেবারেই নিজস্ব বিষয়। তবে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত কোনো বিশেষ ‘বার্তা’ দিতে চাইছে কি না, তা নিয়ে কিছুটা রহস্য রয়ে গেছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এটা একেবারেই তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তারা তাদের কর্মচারীদের পরিবারকে যেকোনো সময় চলে যেতে বলতেই পারেন। কিন্তু কেন বলেছেন, আমি তার কোনো কারণ খুঁজে পাই না। বাংলাদেশে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই যে কর্মকর্তারা বা তাদের পরিবার বিপদে আছে। তেমন কোনো ঘটনা তো এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ঘটেনি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তাদের মনে কোনো আশঙ্কা থাকতে পারে অথবা তারা কোনো মেসেজ (বার্তা) দিতে এটা করছেন। তবে আমি সঠিক কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। নিরাপত্তা নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।’
আসন্ন নির্বাচনকালীন সহিংসতার তুলনা টেনে উপদেষ্টা বলেন, ‘অতীতের নির্বাচনকালীন সময়ের তুলনায় এখন সংঘর্ষ বেশি হচ্ছে— এমনটি আমার মনে হয় না। বড় কোনো সহিংসতার ঘটনাও ঘটেনি। ফলে এমন কোনো নিরাপত্তা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যার জন্য এই পদক্ষেপ নিতে হবে।‘
উল্লেখ্য, ভারতীয় দূতাবাস আগে থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্বেগ জানায়নি বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, সরকার চায় সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা আসুক। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে কোনো উদ্যোগ নেবে না। কেউ আসতে চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন তৌহিদ হোসেন। তিনি জানান, অতীতে হাতে লেখা পাসপোর্ট থাকার সময় দুর্নীতির মাধ্যমে এবং সিস্টেমের ত্রুটির কারণে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরব গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘সৌদি কর্তৃপক্ষ এখন তাদের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছে। সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় আমরা ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে গেছেন।’
এমএইচএস

