পাটওয়ারীকে ডিম নিক্ষেপ, তদন্তে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৩
ছবি: সংগৃহীত
শান্তিনগরের একটি কলেজে পিঠা উৎসবে ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকে ডিম নিক্ষেপ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে’ নির্দেশ দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার।
ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও ঢাকা-৮ আসনের রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী শুক্রবার এ বিষয়ে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির প্রধান সিভিল জজ মো. শামসুল হকের কাছে চিঠি পাঠান।
গত ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে আয়োজিত পিঠা উৎসব চলাকালে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় এনসিপি প্রার্থী অনুষ্ঠানে গেলে ‘হেনস্তার শিকার’ হন এবং তাঁর দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হয়।
পরে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিএনপি প্রার্থীর ‘নির্দেশে’ তাঁর সমর্থকেরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে মির্জা আব্বাস অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ ঘটনার পর রিটার্নিং অফিসার রমনা থানার কাছে ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা তলব করেন। বৃহস্পতিবার কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং শুক্রবার রমনা থানার ওসি লিখিত প্রতিবেদন দেন। এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির’ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওসি ও অধ্যক্ষের বক্তব্য
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীরা ২১ জানুয়ারি থেকে প্রচারে নেমেছেন। বিধি অনুযায়ী, কোনো জনসভা বা কর্মসূচির বিষয়ে স্থানীয় পুলিশকে ২৪ ঘণ্টা আগে জানাতে হয়।
রমনা থানার ওসি তাঁর প্রতিবেদনে জানান, ২৭ জানুয়ারি হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পিঠা উৎসবে রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ বা কোনো রাজনৈতিক পক্ষই পুলিশকে অবহিত করেনি। তবে ‘বিশ্বস্ত সূত্রে’ পুলিশ জানতে পারে, ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ওই উৎসবে যোগ দিতে পারেন।
ওসি জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন এবং রমনা থানার পুলিশ সদস্যদের সেখানে মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি উভয় পক্ষকে উৎসবে অংশগ্রহণ থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সেদিন ক্যাম্পাসে আনুমানিক আড়াই থেকে তিন হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আগমন উপলক্ষে ১১ দলীয় জোটের ছাত্র শিবির, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির কর্মী-সমর্থকেরা জড়ো হন। অন্যদিকে মির্জা আব্বাসের আগমনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলসহ বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরাও সেখানে অবস্থান নেন।
ওসি জানান, বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পিঠা উৎসবে যোগ দিলে সেখানে ‘তুমুল উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির’ সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শিক্ষকদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় উশৃঙ্খল জনতার মধ্য থেকে তাঁর দিকে ডিম ও পানি নিক্ষেপ করা হয় এবং বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
ওসি বলেন, তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুলিশের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি ও দ্রুত প্রতিরোধের কারণে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেনি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে কলেজের অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস তাঁর প্রতিবেদনে জানান, পিঠা উৎসবে কলেজের বাইরের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবং কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমন্ত্রণ করেনি। এ উৎসবে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণাও ছিল না।
এএস/

