শিক্ষাখাতে সংস্কৃতি ও পরিচয়ের মূল্য স্বীকার জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৩৭
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের নামে যে রূপান্তর ঘটছে, তার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেন, শিক্ষা সংস্কারে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নিজস্ব পরিচয়কে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান ঘাটতি ও অসংগতি পর্যালোচনায় গঠিত কমিটির খসড়া প্রতিবেদন নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।
ড. রফিকুল আবরার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন খাতে যারা কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য তাদের অবদান গভীরভাবে স্বীকার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি ভিশন ডকুমেন্ট ও পরামর্শভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সামাজিক শক্তি হিসেবে ভূমিকা আরও সুসংহত করবে। আলোচনায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনগুলো কোনো নির্দিষ্ট সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়; বরং এটি একটি সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার ফল।
সরকারি দায়িত্ব শেষে পুনরায় নাগরিক সমাজভিত্তিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এই দায়িত্ব তাকে নতুন কিছু ইস্যু ও প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের উত্থাপিত বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ নীতিগত আলোচনা ও অ্যাডভোকেসিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি এ আলোচনাকে একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ক্যাম্পের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাখাতে যে গবেষণা ও দাবি উঠে এসেছে, তার প্রতিফলন এই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। কেন শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিতভাবে শিখছে না, কেন শিক্ষকরা কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না—সে প্রশ্নগুলোর অনেক উত্তর এখানে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে মূল্যায়নব্যবস্থা দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা। এবার সমস্যার পাশাপাশি সমাধানের দিকনির্দেশনাও তুলে ধরা হয়েছে, যা ইতিবাচক। তবে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ বলেন, শিক্ষা নিয়ে এসব আলোচনা নতুন নয়, তবে এবার বিষয়গুলো সুশৃঙ্খল ও সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতদিন শিক্ষা নিয়ে আলোচনা ছিল খণ্ডিত; এই প্রতিবেদনে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় শিক্ষা সংস্কার এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ভবিষ্যতে একটি অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার অনন্ত নীলিম। এতে বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
এএস/

