ভোটের আগে ও পরে সংখ্যালঘু-নারী ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:২৭
ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনের আগে ও পরে নারী, সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা দাবি করেছেন দেশের বিশিষ্টজনরা।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কার খবর বেশি আসছে। এ পরিস্থিতিতে ভোটের আগে ও পরে এসব জনগোষ্ঠীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
গণসাক্ষরতা অভিযানের পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
নিজেরা করি-এর সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, সরকারের কাজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে প্রচার করা নয়। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দায়িত্ব হলো নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নারী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ভোটকে ঘিরে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতায় শুধু নারী ও সংখ্যালঘুরাই নয়, প্রার্থীরাও উদ্বিগ্ন। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, দেশে উগ্র দক্ষিণপন্থার উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা বাংলাদেশকে একটি একমাত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বহুত্ববাদী চরিত্র রক্ষা করা জরুরি।
মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। লিখিত বক্তব্যে তিনি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—
নির্বাচন কমিশনের অধীনে নারী, আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেল’ আরও সক্রিয় করা; মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ১২ ঘণ্টা পরপর পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মনিটরের নির্দেশ দেওয়া; কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে রাজনৈতিক প্রচারে জড়িত পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া; এবং নির্বাচনের পরেও নারী ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সম্পদহানির ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ড. ইফতেখারুজ্জামান, জাকির হোসেন, মনীন্দ্র কুমারনাথ, নির্মল রোজারিও, সুব্রত চৌধুরী, সাইদুর রহমান, দীপায়ন খীসা ও কাজল দেবনাথ।

