ভোটের প্রচার থেমেছে, শুরু হয়েছে ৪৮ ঘণ্টার ক্ষণগণনা
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪২
গ্রাফিক্স : বাংলাদেশের খবর
পারস্পরিক বাক্যবাণ, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ও নানা প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আনুষ্ঠানিক প্রচারপর্ব। তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় থেমে যায় মাঠের সব ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রম। ফলে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ভোটের চূড়ান্ত অপেক্ষা।
প্রচারের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। মাইকিং, মিছিল, পথসভা এবং ঘরে ঘরে ভোট চাওয়ার কর্মসূচিতে জমজমাট ছিল শেষ সময়ের প্রচারণা। প্রতীক বরাদ্দের পর গত ২২ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই প্রচারপর্বে বিভিন্ন এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। এ সময় আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে একাধিক মামলা ও জরিমানার ঘটনাও ঘটে।
মাঠের প্রচার বন্ধ হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের চেষ্টা হতে পারে— এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, অনলাইনসহ সব ধরনের প্রচারই এখন নিষিদ্ধ। বিষয়টি কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
এদিকে ভোট আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসি জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় এবার ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট হচ্ছে।
স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সব নির্বাচনী সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫ ২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২২০ জন।
সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় বুথ ও ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে ভোট গণনায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দায়িত্ব পালন করবেন মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং কর্মকর্তা ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে থাকছেন এক লাখ সেনাসদস্যসহ মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকছেন ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষক। পাশাপাশি ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৯ জন, এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি— ২৯১ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা এবং জাতীয় পার্টির ১৯৮ জন প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এসআইবি/এমএইচএস

