ব্যর্থতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি না, আমরা সফল : মৎস্য উপদেষ্টা
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৮
ছবি: সংগৃহীত
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘আমরা মোটেও ব্যর্থতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি না। আমরা কোন দিকে এগোচ্ছি, সেটা যদি দেখেন—আমি বলবো আমরা সফল হয়েছি।’
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে শেষ কর্মদিবসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে গৃহীত কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মাছ ও মাংসের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘ব্যর্থতার দায় নিয়ে আমরা বিদায় নিচ্ছি না। মোটেও ব্যর্থতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি না। মাছের দাম বেশি—এই বিষয়টি আসলে আমাদের কাজের পর্যায়ের মধ্যে পড়ে না। আমাদের কাজ হলো উৎপাদন ও আহরণ নিশ্চিত করা এবং সেটিকে নিরাপদ করা। বাজারে দামের বিষয়টি সত্যি বলতে আমাদের ম্যান্ডেটের মধ্যে পড়ে না।’
তিনি বলেন, ‘দাম বাড়ার পেছনে আরও অনেক এক্সটার্নাল ফ্যাক্টর রয়েছে। ফলে ওই দামের ব্যর্থতার দায়িত্ব আমি নেব না। আর গরুর মাংসের দামের বিষয়টি উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা চেয়েছি, দেশে যা উৎপাদন হবে, তা দিয়েই যেন চাহিদা মেটানো যায়।’
এখনো খামারিদের প্রাণী খাদ্যে ৭০ শতাংশ খরচ হয় উল্লেখ করে ফরিদা আখতার বলেন, ‘আমরা সেখানে কাজ করছি। উৎপাদন ব্যয় যদি কমানো যায়, তাহলে সুফল পাওয়া সম্ভব। তবে ১৫ বা ১৬ মাসে যদি বড় ধরনের সমস্যার সমাধান আশা করেন, তা নিশ্চয়ই সম্ভব নয়। আমাদের কাজ উৎপাদন নিরাপদ করা, যেটা আমরা করতে পেরেছি। আমরা কোন দিকে এগোচ্ছি, সেটা দেখলে বলবো—আমরা সফল হয়েছি।’
কৃষির উপখাত নয়, পূর্ণাঙ্গ খাত হিসেবে স্বীকৃতি চায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ
সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান, প্রাণিজ আমিষের জোগান এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও কর্মসংস্থানের বড় অংশ জুড়ে থাকলেও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত ‘কৃষির উপখাত’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কারণে জাতীয় পরিকল্পনা, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে অবহেলিত থেকেছে। ফলে এ খাত নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষি খাতের সুবিধা যেমন বিদ্যুতের রেয়াত, ঋণ সুবিধা ও প্রণোদনা—এসব সুবিধা মৎস্য চাষি ও গবাদিপশু পালনকারী খামারিরা পাননি।
ফরিদা আখতার আরও বলেন, ‘এ কারণে আমরা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, পরিকল্পনা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে পত্র দিয়েছি, যেন উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিতরণ, ব্যবস্থাপনা ও সময়ের চাহিদা বিবেচনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে উপখাত নয়, পূর্ণাঙ্গ খাত হিসেবে মর্যাদা ও সুবিধা দেওয়া হয়। এতে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বাড়বে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং এ খাতের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়ে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা আরও জানান, সাগরে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
এএস/

