ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন, প্রত্যাশার সঙ্গে চ্যালেঞ্জও আছে : ইসি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০৮
ছবি: সংগৃহীত
দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটগ্রহণকে ঘিরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন জানিয়েছে, সার্বিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো, তবে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এবারের ভোটে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এছাড়া ভোট ঘিরে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে এমন দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে, অনাকাঙ্ক্ষিত বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা এড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে ইসি।
১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। তবে নির্ধারিত সময় শেষে লাইনে থাকা ভোটারদেরও ভোট গ্রহণ করা হবে বলে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
প্রার্থী ও ভোটারের সংখ্যা
সানাউল্লাহ জানান, এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২,০২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ৮১ জন নারী। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। পুরুষ ভোটার প্রায় ৬ কোটি ৪৮ লাখ, নারী ভোটার প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ। সারাদেশে ৪২,৯৫৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।
প্রায় ৫০ শতাংশ কেন্দ্রকে সাধারণ এবং বাকি ৫০ শতাংশকে গুরুত্বপূর্ণ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি
নির্বাচন নিরাপদ করতে এবার যুক্ত হয়েছে ড্রোন, বডি-ক্যাম ও সিসিটিভি। প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দুই হাজার ১০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ২৫ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে।
গত দুই মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৮৫০টির বেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে, যা সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পোস্টাল ভোটের জন্য ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৩ হাজার ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।
এবার ভোটে দুটি আলাদা ব্যালট ব্যবহার করা হবে—সাদা ব্যালট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালট গণভোটের জন্য। দুটি ব্যালটের ফলাফল একসঙ্গে গণনা ও প্রকাশ করা হবে।
পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক
এবার নির্বাচনে ৪৫ হাজার পর্যবেক্ষক ও প্রায় ১০ হাজার সাংবাদিক দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে দেশীয় পর্যবেক্ষক ৪৫,৩৩০ জন, বিদেশি পর্যবেক্ষক প্রায় ৩৫০ জন এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের ৯,৭০০ জন সাংবাদিক থাকবেন। ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন।
নির্বাচনে বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের কারণে ৩০০টির বেশি মামলা করা হয়েছে, এর মধ্যে ৫০০’র বেশি তদন্ত শেষ হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারবেন। তবে গোপন কক্ষে প্রবেশ, লাইভ সম্প্রচার এবং ভোটারের সাক্ষাৎকার গ্রহণ নিষিদ্ধ। ভোটারদের গোপন কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ
ত্রয়োদশ নির্বাচন ঘিরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের ওপর দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। মানুষ এবারের ভোটে আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখতে চায়।
একদিনে দুই ভোট হওয়ায় ইসির সামনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দুটি আলাদা রঙের ব্যালট ব্যবস্থাপনা, অংশ নিতে না পারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আচরণ, এবং সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে এআই ব্যবহার করে প্রচার-অপপ্রচার—এসবই কমিশনের জন্য বাড়তি উদ্বেগের বিষয়।
এএস/

