গ্রাফিক্স : বাংলাদেশের খবর
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামীকাল বৃহস্পতিবার। সব শঙ্কা উড়িয়ে অবশেষে হচ্ছে ভোট। ইতোমধ্যে উৎসবের আবহে আছে পুরো দেশ। অনেকটা সময় ভোটদান থেকে বঞ্চিত দেশের মানুষ। তারা মুখিয়ে আছে ব্যালটের মাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করতে। নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইতোমধ্যে ছুটির আমেজে দেশ। ঈদের মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ নিজ নিজ এলাকায় যাচ্ছেন।
দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই হাজারের বেশি প্রার্থী, যাদের মধ্যে নারী প্রার্থীও রয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়। নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন প্রস্তুতি। সারা দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ৬৫০-এর বেশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রায় ১০ লাখ নিরাপত্তা সদস্য। ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, ব্যবহৃত হবে ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা। ভোটের দিন পাঁচ ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ সারা দেশে চলছে পুলিশি তল্লাশি ও নজরদারি। একই সঙ্গে ভোটকে ঘিরে মানুষের অংশগ্রহণ ও প্রত্যাশার চিত্র ফুটে উঠেছে ‘জনমত বাক্স’-এ জমা পড়া হাজারো মতামতে। সব মিলিয়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছেÑ ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
লড়াইয়ে ২০২৮ প্রার্থী, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫০ শতাংশ: এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮১ জন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর করতে মাঠ পর্যায়ে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। গতকাল মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
ইসি সানাউল্লাহ জানান, সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে সশরীরে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে। সব মিলিয়ে মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৯৫৮টি। ইন-পার্সন ভোটিংয়ের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ এবং বাকি ৫০ শতাংশ কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ।
পোস্টাল ভোটের বিষয়ে তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ৭ লাখ ৩ হাজার ব্যালট পৌঁছেছে। বাকিগুলো ট্রানজিটে রয়েছে, যা বৃহস্পতিবারের মধ্যে পৌঁছে যাবে। সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এবার বিশাল বহর থাকছে। দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন। এর মধ্যে ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন, যা আরও বাড়তে পারে। সংবাদ সংগ্রহের জন্য ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, যাদের মধ্যে ১৫৬ জন বিদেশি সংবাদকর্মী। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকছে ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য। দায়িত্ব পালন করবেন ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। নিরাপত্তায় এবার যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে ইউএভি (ড্রোন) এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা। এছাড়া ৯৫ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাঠ পর্যায়ে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৯৫৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং ৫ লক্ষাধিক পোলিং অফিসার ভোটগ্রহণের কাজে নিয়োজিত থাকবেন। বুধবার সকাল থেকে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে।
সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এবার ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকতে পারবে। নির্বাচনের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর অগ্রগতির রিপোর্ট প্রদান করা হবে (মোট চারবার)। গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ফলাফল একই সাথে ঘোষণা করা হবে। বেশিরভাগ ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করছে ইসি। পরের দিন সকালে রিটার্নিং অফিসার ‘ফর্ম-১৮’ তে স্বাক্ষর করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশিত হবে।
আবুল ফজল জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে এ পর্যন্ত ৩০০টি মামলা দায়ের এবং ৫০০টিরও বেশি তদন্ত করা হয়েছে। এছাড়া ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৮৫০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। দুষ্টচক্র সহিংসতা ঘটাতে চাইলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। কুমিল্লা, যশোর ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান তারই প্রমাণ।
ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি জানান, মানুষের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা ছেড়ে মানুষের গ্রামে যাওয়ার ঢল দেখে ভালো ভোটার টার্নআউটের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কমিশন সকল রাজনৈতিক দল ও সমর্থকদের সুন্দর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ভোট উৎসব সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার চোখ: সংসদ নির্বাচনে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল আগেই। নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ ৯০ শতাংশের কথা বললেও কতটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্টভাবে হিসাব দিতে পারেননি। সংখ্যাটি বুধবার জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সিসি ক্যামেরা ছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রয়োজন বিবেচনায় ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে বলে তিনি জানান। প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার শেষ: সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার শেষ হলো। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটায় নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়। গত ২২ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছিল। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচার শেষ হতে হয়। সে অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচার শেষ হলো। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ১৮ ধারায় বলা আছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের ৩ সপ্তাহ আগে নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না। আর ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে নির্বাচনী প্রচার শেষ করবেন।
অপরাধ দমনে মাঠে ৬৫৫ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট: সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে মঙ্গলবার থেকে দেশজুড়ে মাঠে নাওম ৬৫৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত এই বিচারকরা মঙ্গলবার থেকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫ দিন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাবলে নির্বাচনী অপরাধসমূহ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্য পরিচালনা করবেন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, ভোটগ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটের দিন এবং পরের দুই দিন অর্থাৎ ৫ দিনব্যাপী এই বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নিয়োগপ্রাপ্ত এই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ‘দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’-এর অনুচ্ছেদ ৮৯ এ-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্বাচনী অপরাধসমূহ সরাসরি আমলে নেওয়ার এখতিয়ার রাখবেন।
বিশেষ করে ভোটদানে বাধা প্রদান, ভোটকেন্দ্র দখল, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন তফসিলি অপরাধের ক্ষেত্রে তারা ‘দ্য কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ এর ১৯০ (১) ধারা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বিচার বা ‘সামারি ট্রায়াল’ পরিচালনা করবেন। আইন ও বিচার বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে জুডিশিয়াল সার্ভিসের এই কর্মকর্তাদের বিশেষ ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে যাতে যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। প্রজ্ঞাপনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে কোনো অপরাধ আমলে নেওয়া হলে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসি সচিবালয়ের আইন শাখায় প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। প্রতিটি সংসদীয় আসনে এক বা একাধিক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন এবং তাদের সহায়তার জন্য বেঞ্চ সহকারী বা স্টেনোগ্রাফার সঙ্গে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার বিচারকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেটদের নিরাপত্তা ও চলাচলের জন্য জেলা প্রশাসকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যানবাহন যেমন জিপ, মাইক্রোবাস কিংবা স্পিডবোটের সংস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিচারকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ মোতায়েন করতে বলা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি স্থানে বিচারকদের সুনির্দিষ্ট অধিক্ষেত্র ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়-১ থেকে শুরু করে বান্দরবান পর্যন্ত প্রতিটি আসনে বিচারকদের এই সরাসরি নজরদারি নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে কমিশন। ভোটের দিন পাঁচ ধরনের যানবাহন চলাচল নিষেধ: গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ উপলক্ষে বুধবার মধ্যরাত ১২টা থেকে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল সারা দেশে বন্ধ থাকবে। ভোট গ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোট গ্রহণের পরদিন শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ইসির স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল চলাচলে বাধা নেই।
ইসি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন (ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং সংবাদপত্র বহনকারী সব ধরনের যানবাহন) চলবে। আত্মীয়স্বজনের জন্য বিমানবন্দরে যাওয়া, বিমানবন্দর থেকে যাত্রী বা আত্মীয়স্বজনসহ নিজ বাসস্থানে অথবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত যানবাহন (টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন) চলতে পারবে। ইসি আরও জানিয়েছে, দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী অথবা দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য যেকোনো যানবাহন চলতে পারবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও নির্বাচনী এজেন্টের (যথাযথ নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে) জন্য একটি গাড়ি (জিপ, কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি ছোট আকৃতির যানবাহন) রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন ও গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে।
সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কোনো কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও মোটরসাইকেল নির্বাচন কমিশন/রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে বলেও উল্লেখ করেছে ইসি। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে।
টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিটিআরসি ও বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে বলেও জানিয়েছে ইসি। জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ছাড়া আন্তজেলা বা মহানগর থেকে বের হওয়া বা প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও প্রধান প্রধান রাস্তার সংযোগ সড়ক বা উক্তরূপ সব রাস্তায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মো. আবদুল আলীম বলেন, নির্বাচনের দিন ভোটার ভোট দেওয়ার জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি (কার) নিয়ে চলাচল করতে পারবেন। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (এমটিসিএল) জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের দিন মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। ভোটকেন্দ্রে কারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন জানালো ইসি: সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটার এবং প্রার্থীসহ সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় গোপন কক্ষে (মার্কিং প্লেস) মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রে নির্দিষ্ট কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক, প্রার্থী ও ভোটাররা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।
রাজধানীতে পুলিশের তল্লাশি জোরদার: নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের তল্লাশি জোরদার করেছে পুলিশ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঠেকাতে মঙ্গলবার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করে পুলিশ। প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে থাকা যাত্রীদের পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়। সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি করা হয় ব্যাগ ও যানবাহন। ভোটের গাড়ির প্রচারে ‘জনমত বাক্স’, ইউনূসকে লিখেছেন ৪০ হাজারের বেশি মানুষ: ভোটের গাড়ির প্রচার কার্যক্রমে ‘জনমত বাক্স’-এ লেখা মতামতের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নানা বয়সের মানুষ সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নিজেদের ভাবনা, দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘দেশের চাবি, আপনার হাতে’ গণভোট ২০২৬ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সচেতনতামূলক প্রচারণার জন্য ভোটের গাড়ির প্রচারণা কার্যক্রমে ‘জনমত বাক্স’-এ টুকরো টুকরো কাগজে ৪০ হাজার ২০৬ জন তাদের মন্তব্য জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেউ লিখেছেন ব্যক্তিগত দুঃখের কথা, কেউ চান হয়রানিমুক্ত পাবলিক সার্ভিস ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার। জনমত বাক্সে সবচেয়ে বেশি মন্তব্য এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে-১০ হাজার ২১৬টি। চট্টগ্রাম থেকে এসেছে ৬ হাজার ৬টি, রাজশাহী থেকে ৫ হাজার ৭৩৮টি, খুলনা থেকে ৪ হাজার ৬৭৮টি, রংপুর থেকে ৩ হাজার ৬০৫টি, বরিশাল থেকে ২ হাজার ১২৪টি, ময়মনসিংহ থেকে ১ হাজার ৭৯৯টি এবং সিলেট থেকে এসেছে ১ হাজার ৬৫১টি মন্তব্য। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোটের গাড়ি সারাদেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ২ হাজার ১৬৯টি স্পটে গিয়ে এ প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে ইসি। এ কারণে আসনটি বাদে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেপি/এমএইচএস

