৩৫ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর পদে নতুন অধ্যায়
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০২
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের পথে বিএনপি। ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে ১৭৫টি আসনে জয় পেয়েছে দলটির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীরা। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন ৫৬টি আসনে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন। স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ১১টি আসনে।
এখনো ৪২টি আসনের ফলাফল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে ঘোষিত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপির এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১ আসনের সীমা ইতোমধ্যেই অতিক্রম করেছে দলটি। ফলে সরকার গঠন এখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ইতিহাস বলছে, সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে কাজী জাফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯০ সালের পর থেকে দীর্ঘ সময় নারী নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হয়েছে। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা একাধিক মেয়াদে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে দেশ।
নির্বাচনে জয় উদযাপন উপলক্ষে কোনো ধরনের বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলের প্রেস উইং জানিয়েছে, নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য বাদজুমা সারাদেশে শুকরিয়া আদায় ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনে তারা আত্মবিশ্বাসী। ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে এককভাবে সরকার গঠনে প্রয়োজন ১৫১ আসন। পাশাপাশি দুই শতাধিক আসন পাওয়া দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সংসদে সংবিধান পরিবর্তনসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যদিও এবারের সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে’ গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এতে ‘হ্যাঁ’ ভোট বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে এককক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদে রূপান্তরের প্রস্তাব রয়েছে জুলাই সনদে।
দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে এবারই প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি প্রথমবারের মতো প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের মাসখানেক আগে মায়ের মৃত্যুর পর দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তার নেতৃত্বেই দলের প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগেই জানিয়েছেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তারেক রহমানই হবেন প্রধানমন্ত্রী।
নির্ধারিত সময় বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ হয়।
সারাদেশে ২৯৯টি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত রয়েছে। এ নির্বাচনে ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৭৫৫ জন ও স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ভোটগ্রহণে প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
ডিআর/এমবি

