মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সিপাহসালার ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সংলগ্ন গোরস্থানে তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
জাতির এই কৃতী সন্তানের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে তার জন্মস্থান সিলেট এবং রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বেলা ১১টায় রাজধানীর রাওয়া হেলমেট হলে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করা এই মহানায়কের পৈতৃক নিবাস সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দয়ামীর গ্রামে। ১৯৩৯ সালে তিনি ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং মাত্র ২৩ বছর বয়সে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ মেজর হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মা রণাঙ্গনে তিনি সাহসিকতার সাথে একটি বিশাল বাহিনীর নেতৃত্ব দেন।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৫৬ সালে কর্নেল পদে পদোন্নতি পান। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন তিনি সর্বদা বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও স্বাধিকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। ১৯৬৭ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং নির্বাচনে অংশ নিয়ে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার তাকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত করে। তার রণকৌশল এবং সুশৃঙ্খল নেতৃত্বে দেশজুড়ে সেক্টর বিভাজন ও গেরিলা যুদ্ধ পরিচালিত হয়, যা ৯ মাসের মাথায় দেশকে শত্রুমুক্ত করতে অনন্য ভূমিকা রাখে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রিসভায় নৌ-পরিবহণ ও বিমান মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
যথাযোগ্য মর্যাদায় এই বীর সেনানীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে।
এমএইচএস

