অর্থী আহমেদের একুশে পদক পুনর্বিবেচনার দাবি নৃত্যশিল্পীদের
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৭
২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য নৃত্যকলায় মনোনীত অর্থী আহমেদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের প্রবীণ ও প্রতিষ্ঠিত নৃত্যশিল্পীরা। ঘোষিত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পীবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী বলেন, একুশে পদক আজীবন সাধনা এবং জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের স্বীকৃতি। কিন্তু এবারের মনোনীত প্রার্থীর অভিজ্ঞতার পরিসর এবং নৃত্যশিক্ষায় মৌলিক অবদানের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সংবাদ সম্মেলন কোনো ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করার জন্য নয়, বরং এই সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানের মর্যাদা রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সঠিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের একটি প্রয়াস মাত্র।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে অনেক সিনিয়র শিল্পী রয়েছেন যারা কয়েক দশক ধরে সাধনা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। তাদের অবদান উপেক্ষা করে একজন তরুণ শিল্পীকে বেছে নেওয়া নৃত্যাঙ্গনের জন্য হতাশাজনক। তারা ২০২৬ সালের পদক নীতিমালার সঠিক প্রয়োগ যাচাই করতে এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের মতামত গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য নৃত্যশিল্পী তামান্না রহমান, আনিসুল ইসলাম হিরু, আমানুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, এম আর ওয়াসেক, শারমিন হোসেন, মনিরা পারভিনসহ বিভিন্ন প্রজন্মের অর্ধশতাধিক শিল্পী। তারা একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে সরকার ২০২৬ সালের একুশে পদক বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। এই তালিকায় চলচ্চিত্রে ববিতা, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান এবং সংগীতে মরণোত্তর আইয়ুব বাচ্চুর মতো ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদের নাম আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এমএইচএস

