Logo

রাজনীতি

গত বছরে ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন জামায়াতের আমির

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৬

গত বছরে ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন জামায়াতের আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির শফিকুর রহমান গত বছরের শুরুর দিকে একটি ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। বিষয়টি বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। জামায়াত আমির গতকাল বাসভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৈঠকটি নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকটি তাঁর বাইপাস সার্জারির পর অনুষ্ঠিত হয়।

শফিকুর রহমান জানান, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা সাধারণত প্রকাশ্যে সাক্ষাৎকার নেন, তবে ভারতীয় কূটনীতিক বৈঠকটি গোপন রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘অনেক কূটনীতিক আমার কাছে এসেছেন এবং তা প্রকাশিত হয়েছে। সমস্যা কোথায়? আমাদের সকলের মধ্যে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। সম্পর্ক উন্নয়ন ছাড়া বিকল্প নেই।’

রয়টার্স এই বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পায়নি। তবে ভারত সরকারের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

জামায়াতের ঐতিহাসিক পাকিস্তান সংযোগ নিয়ে জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখি এবং কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকতে চাই না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

নির্বাচন ও ঐক্যের সরকার

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি ঐক্যের সরকারের অংশ হতে আগ্রহী এবং ইতিমধ্যেই কয়েকটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১৭ বছর পর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে জামায়াত, এবং তারা বিএনপির পর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকতে পারে।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা অন্তত পাঁচ বছর দেশের স্থিতিশীলতা দেখতে চাই। দলগুলো যদি একসঙ্গে আসে, তবে আমরা ঐক্যের সরকার পরিচালনা করব।’ নির্বাচনে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান হবে দলটির গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি আসন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

জামায়াতের রাজনৈতিক উত্থান মূলত ২০২৪ সালের আগস্টের অভ্যুত্থানের পর ঘটে, যখন আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না।

রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত উদ্বেগ

সাক্ষাৎকারে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতকে কেন্দ্র করে গঠিত সরকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে ‘স্বস্তি বোধ’ করবে না। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন। চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মেয়াদের মধ্যভাগে পদত্যাগ করতে চান। তবে বুধবার টেলিফোনে জামায়াতের বৈঠকের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

তবে বুধবার রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জামায়াত আমিরের অবস্থানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টিকে আর জটিল করতে চাই না।’

এনএ

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

জামায়াত আমির বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর