মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে বৈষম্য করা হয়েছে : তাহের
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:২০
জামায়েত ইসলামী নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে বৈষম্য করা হয়েছে। দলীয় ডিসিরা পক্ষপাতিত্ব করছে।
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আমরা বড় ধরনের বৈষম্য লক্ষ্য করেছি। প্রশাসনের সিদ্ধান্তে মারাত্মক ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দ্বৈত নাগরিকত্বের একই ধরনের অভিযোগে কোথাও মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে, আবার কোথাও তা বাতিল করা হয়েছে। বিএনপির আব্দুল মালেক সাহেব (সিলেট) সহ ১২–১৩ জনের মনোনয়ন একই ঘটনায় গ্রহণ করা হলেও একই ধরনের ঘটনায় আমাদের প্রার্থী সালেহ সাহেবের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
একইভাবে একটি মামলার বিষয়ে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ আমলে আমাদের তিনজন নেতাকে অবৈধভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, অথচ একই ঘটনা ও একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে অন্যদের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে। একই আইন, একই দেশ—কিন্তু সিদ্ধান্ত ভিন্ন। আমরা এই বৈষম্যের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি এবং এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।
আমাদের স্পষ্ট অভিযোগ হলো—বিভিন্ন জেলায় দলীয় বিবেচনায় ডিসি ও এসপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেই দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে। আমরা বলেছি, এ ধরনের ডিসি ও এসপিদের অপসারণ করে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো নিশ্চিত হয়নি। একটি দলকে প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্পষ্ট সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আমি নিজে তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি স্বীকার করেছেন যে গণমাধ্যম এখনো পুরোপুরি নিরপেক্ষ হয়নি। আমরা বলেছি—বিলম্ব হলেও সব গণমাধ্যমকে সমান ও নিরপেক্ষ হতে হবে।
আবু তাহের বলেন, নিরাপত্তা (প্রটেকশন) নিয়েও বৈষম্য রয়েছে। কাউকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, আবার একই ধরনের নেতাদের কোনো নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না। এটি শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, এটি জনমনে ভুল বার্তা দেওয়ার বিষয়। নির্বাচনের সময় এই ধরনের বৈষম্য জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তিকর ইমপ্রেশন তৈরি করে।
বর্তমানে প্রচারণার নামে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে ভিজিএফ কার্ড, কৃষি কার্ড, মেডিকেল কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে—যা সম্পূর্ণভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন। আমরা এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন ব্যবস্থা নেবেন। আমরা অপেক্ষা করছি—আশ্বাসই যথেষ্ট নয়, কার্যকর পদক্ষেপ চাই।
এছাড়া আমরা নির্বাচনে সিসিটিভি স্থাপনের দাবি জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশন নীতিগতভাবে এতে সম্মত হয়েছে এবং জানিয়েছে, অন্তত ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানোর চেষ্টা করবে, যেখানে বিদ্যুৎ ও কারিগরি সুবিধা থাকবে।
এসআইবি/আইএইচ

