Logo

রাজনীতি

নির্বাচনের আগমুহূর্তেও অনেক কিছু হতে পারে : অ্যাডভোকেট জুবায়ের

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৩

নির্বাচনের আগমুহূর্তেও অনেক কিছু হতে পারে : অ্যাডভোকেট জুবায়ের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। ছবি : সংগৃহীত

সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমঝোতা কিংবা নতুন সমীকরণ অস্বাভাবিক নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নাই। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় এখনো বাকি আছে। এমনকি নির্বাচনের আগমুহূর্তেও অনেক কিছু হতে পারে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সমসাময়িক রাজনীতি ও নির্বাচনী ঐক্য নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের জানান, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ২০ তারিখ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা, আসন বণ্টন কিংবা নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

নির্বাচনী ঐক্যের কাঠামো নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক জোট নয়; বরং একটি নির্বাচনী ঐক্য প্রক্রিয়া। সে কারণেই এখানে আহ্বায়ক, সদস্য সচিব বা নির্দিষ্ট সাংগঠনিক কাঠামো রাখা হয়নি। জোট হলে কাঠামো থাকত। এখানে তা হয়নি। এখানে ‘বাই রোটেশন’ পদ্ধতিতে সবাই বক্তব্য রেখেছেন। এটাকে একটি সুন্দর রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকাশ বলা যায়।

৫ দফা দাবি ও আন্দোলন প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, এই দাবিগুলো বর্তমান বাস্তবতাকে সামনে রেখেই নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত দাবি ছিল না। ‘পাঁচ দফা দাবি আমরা বলেছি, অন্যরাও বলেছে। আমাদের কর্মসূচি ও অবস্থান সবার কাছেই পরিষ্কার।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে সরে যাওয়ার প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বলেন, বিষয়টি এখনো রাজনৈতিকভাবে চূড়ান্ত নয়। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় পর্যন্ত আলোচনার সুযোগ রয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে আবেগী বক্তব্য এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে আবার আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে কি না, সেটিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

নির্ধারিত একটি বৈঠক না হওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির ব্যাখ্যায় জুবায়ের বলেন, এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত একটি মানবিক ভুল। সংশ্লিষ্ট নেতা অসুস্থ থাকায় বৈঠকের বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন। পরে দুঃখ প্রকাশও করা হয়েছে। ‘মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। এখানে কোনো তুচ্ছতাচ্ছিল্য বা অসম্মানের প্রশ্ন নেই।’

আসন বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি জানান, জোটের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ৪৭টি আসন খালি রাখা হয়েছে। এসব আসনের কিছু ইসলামী আন্দোলনের জন্য এবং কিছু অন্যান্য শরিক দলের জন্য সংরক্ষিত ছিল। বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় এসব আসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও লিয়াজোঁ কমিটি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি বলেন, দল বা জোটের গঠন যাই হোক না কেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ‘আমরা ৩০০ আসনেই থাকব। ৩০০ আসনেই প্রার্থী থাকবে।’

জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, এটি জামায়াতের ঘোষিত নীতি। জনগণ যদি ভোটের মাধ্যমে দায়িত্ব দেয়, তাহলে তারা এককভাবে নয়, বরং সব রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবে। ‘এটা আমাদের ডিক্লেয়ারড পজিশন।’

এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদ নির্বাচন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর