নতুন বাংলাদেশ গড়তে ১১ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ : ডা. শফিকুর রহমান
মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:০৯
ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়ে ৫৪ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতার সাক্ষী জনগণ— এ কথা উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত ৫৪ বছরে দুর্নীতি ও দুঃশাসনে দেশকে তলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এককভাবে কোনো দল নয়, যারা দেশ শাসন করেছে— কেউই বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না যে তারা সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করেছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর-১ ও মেহেরপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের শাসকরা জনগণকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি, যুবসমাজের হাতে কাজ তুলে দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে পারেনি। ব্যাংক লুট, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ ও সামাজিক অবক্ষয়ের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই তাদের।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মানুষ কি আবার সেই পুরনো বস্তাপচা রাজনীতি ও বিভাজনের রাজনীতিতে ফিরে যেতে চায়? নাকি পরিবর্তন চায়? আমরা পরিবর্তনের আওয়াজ নিয়ে মাঠে নেমেছি। আমাদের সঙ্গে আছে দেশের আপামর যুবসমাজ, মা-বোনেরা, শ্রমিক-কৃষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা দেশ শাসন করেছে তারা একদিকে লুটপাট করেছে, অন্যদিকে ধর্ম-বর্ণ ও অঞ্চলভিত্তিক বিভাজন সৃষ্টি করে জাতিকে টুকরা টুকরা করেছে। ১১ দলীয় ঐক্যের অর্থই হলো— একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। এ দেশকে আর বিভক্ত হতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ জনগণ মেনে নেবে না। অতীত ও বর্তমানের কার্যকলাপ দেখে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী ১২ তারিখে দেশের সাড়ে ১২ কোটি ভোটার নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। আমরা ন্যায়, সততা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।
ডা. শফিকুর রহমান দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় জনগণের দোয়া ও ভোটে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পেলে জনগণের সম্পদের দিকে হাত বাড়ানো হবে না। সরকারি তহবিলের প্রতিটি আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদের সদস্যদের সম্পদের হিসাব প্রতিবছর জনগণের কাছে দিতে হবে।
নদী ও পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের নদীগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পেলে প্রথমেই নদীর জীবন ফিরিয়ে আনা হবে। নদী বাঁচলে মাটি বাঁচবে, মাঠ বদলাবে—এই মাটি ও মানুষের ভালোবাসা নিয়েই আমরা কাজ করবো।
অতীতে জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত মন্ত্রণালয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জামায়াতের দুজন শীর্ষ নেতা মন্ত্রী হিসেবে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দায়িত্ব পেলে প্রতিটি মন্ত্রণালয় সৎ ও যোগ্য লোক দিয়ে পরিচালিত হবে।
নারী নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে জাতি তার মা-বোনকে সম্মান করে আল্লাহ সেই জাতিকে সম্মানিত করেন। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী সমাজ ঘর, রাস্তা ও কর্মস্থলে শতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা চাঁদাবাজিকে পেশা বানিয়েছে তাদের সেই পথ ছেড়ে সৎ জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে। চাঁদাবাজরা যদি তাওবা করে টাকা ফেরত দেয়, রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। একটি সুখী-সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়তে অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুবসমাজ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বেকার ভাতা নয়, যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। চাকরির আবেদনের সব খরচ সরকার বহন করবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলা ভাষার পাশাপাশি আরবি ও ইংরেজির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সাধারণ নাগরিক ও রাষ্ট্রপ্রধান— আইনের চোখে সবাই সমান হবে। অপরাধ করলে কেউই ছাড় পাবে না। জনপ্রতিনিধিদের শাসক নয়, সেবক হতে হবে এবং বছরে অন্তত একবার জনগণের মুখোমুখি হতে হবে।
পরিশেষে তিনি জুলাই সনদের বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামী।
জনসভায় মেহেরপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দীন খান এবং মেহেরপুর-২ আসনে প্রার্থী নাজমুল হুদাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাঁদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান জামায়াত আমীর।
জেলা জামায়াতের আমীর ও মেহেরপুর-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দীন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হুসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ সিবগা, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মাহবুব উল আলম, শহীদ পরিবারের সদস্য তৌফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মেহেরপুর জেলা সভাপতি মাওলানা হুসাইন আহমেদ, খেলাফত মজলিশের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাহ আলম, গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. রবিউল ইসলাম, সদর উপজেলা আমীর মাওলানা সোহেল রানা, মুজিবনগর উপজেলা আমীর মাওলানা খান জাহান আলীসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হুসাইন।
আকতারুজ্জামান/এসএসকে/

