Logo

রাজনীতি

হত্যা ও নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগে বিএনপির বিরুদ্ধে জামায়াতের বিক্ষোভ

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:৪৪

হত্যা ও নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগে বিএনপির বিরুদ্ধে জামায়াতের বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে হত্যার ঘটনা এবং ভোটের প্রচারে নারী কর্মীদের হেনস্তার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর কদমতলীতে জামায়াতের নারী নেতাকর্মীরাও মিছিল করেছেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে মিছিল সমাবেশ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত। 

গত বুধবার শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিহত হন ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায়। একই দিনে রাজধানীর কদমতলীতে ঢাকা-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রচারে স্থানীয় জামায়াত কর্মী কাজী মারিয়া ইসলাম বেবিকে মাথা ফাটিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।

জামায়াতের অভিযোগ, নারী নেতাকর্মীদের ধারাবাহিক হেনস্তার অংশ হিসেবে এ হামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানী মগবাজার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের উসকানি ও সরাসরি নির্দেশে রেজাউল করিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করি। বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলকে হত্যায় অবস্থান করছিল।

প্রশাসনের সমালোচনা করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে নিষ্ক্রিয় ছিল। এতে প্রমাণিত হয় প্রশাসন একদিকে হেলে পড়েছে। এভাবে চললে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে থাকবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিএনপির সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ তুলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপির উসকানিতে সংঘর্ষ হয়। এরপর ঝিনাইগাতী বাজারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও কর্মীদের পথ রোধ করে। রাস্তা ছেড়ে দিতে পুলিশ অনুরোধ করলেও বিএনপি নেতারা তা না শুনে মাইকে উসকানি দেন। নুরুজ্জামান বাদল নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজার পার হতে চাইলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা। রেজাউল করিমকে তখন একা পেয়ে কোপায়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রথম হাতাহাতির সময়ে পুলিশ সক্রিয় হলে ঘটনা এতদূর আসত না। তবে সেনাবাহিনী সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে। এহছানুল মাহবুব যোবায়ের বলেছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার বিচার করতে হবে। প্রশাসনের ব্যর্থতার তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ

ঢাকায় মহিলা জামায়াতের প্রথম মিছিলটি বৃহস্পতিবার কদমতলীতে হয়। এতে কয়েকশ নারী অংশ নেন। মিছিলের পর সমাবেশে মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন বলেন, যুবদলের সন্ত্রাসীরা রামদা দিয়ে কুপিয়ে মারিয়া ইসলাম বেবিকে জখম করেছে, যা নারীর প্রতি সহিংসতা। নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, অধিকার লুণ্ঠন করে বিএনপি নব্য ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ কারণেই আওয়ামী লীগের মতোই একদলীয় শাসন কায়েমে নির্বাচনী প্রচারে বাধা দিচ্ছে। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিঘ্ন ঘটলে জুলাইয়ের মতো নারীরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

বিএনপি নির্বাচন বানচাল চায়

উত্তর গেটে মহানগর দক্ষিণের সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতোই বিএনপি হত্যার পথ বেছে নিয়েছে। বিএনপি সন্ত্রাসীরা হামলা করে প্রমাণ করেছে, তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়। সন্ত্রাসের জবাব জনগণ ব্যালটে দেবে। নারীর প্রতি সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতা এবং প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। সমাবেশের পর বিক্ষোভ মিছিল বিজয়নগর, কাকরাইল হয়ে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

এএস/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

বিএনপি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর