দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার মাঠে উত্তাপ ছড়ানোর মধ্যেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পেলেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও অপপ্রচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর দশমিনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে এই নোটিশ জারি করা হয়। নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য এবং দেওয়ানি আদালতের বিচারক সাব্বির মো. খালিদ স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে নুরকে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের পক্ষে আইনজীবী এনামুল হক এই অভিযোগটি দায়ের করেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিপক্ষ প্রার্থী হাসান মামুন সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন নুর, যা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ছাড়া গত ২৬ জানুয়ারি রাতে দশমিনা উপজেলার পাগলা বাজার সেন্টারে হাসান মামুনের নির্বাচনী কার্যালয়ে নুরের সমর্থকরা হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এই ঘটনায় কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে নোটিশে।
পটুয়াখালী-৩ আসনে ভোটের লড়াই শুরু থেকেই নাটকীয় মোড় নিয়েছে। এই আসনে বিএনপির সাবেক নেতা হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। অন্যদিকে জোটগত সমঝোতায় বিএনপি এখানে সমর্থন দিয়েছে নুরুল হক নুরকে, যিনি ‘ট্রাক’ প্রতীকে লড়ছেন। স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ মামুনের পক্ষে থাকায় সম্প্রতি দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্র। দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বর্তমানে নির্বাচনী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘাত এড়াতে প্রশাসন বাড়তি সতর্কবস্থানে রয়েছে।
এমএন

