কর্ণেল অলি
কারও গোলামি না করে, জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি করতে হবে
সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ, কুমিল্লা
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৯
ছবি : বাংলাদেশের খবর
লিবারেল ডেমোক্রাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, দেশের রাজনীতি কোনো বিদেশি শক্তির অনুমতির ওপর নির্ভর করতে পারে না। দেশের মালিক হলেন জনগণ। তাই কারও গোলামি না করে, জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি করতে হবে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্নেল অলি বলেন, ‘কে দেশে আসবে আর কে আসবে না—সেটি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনেতা ঠিক করবেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। প্রশ্ন হলো, আপনারা কোন পক্ষে থাকবেন—বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে, নাকি বিদেশি প্রভুর পক্ষে? এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।’
নির্বাচনী জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতে যোগ দিইনি, জামায়াতও এলডিপিতে যোগ দেয়নি। দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলো এক হয়ে কিছু ন্যায্য কর্মসূচিতে ঐকমত্য হয়েছে। আমরা ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করব, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করব। ঋণখেলাপীদের আইনের আওতায় এনে জনগণের অর্থ উদ্ধার করা হবে।’
দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে কর্নেল অলি বলেন, ‘এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, এটি ন্যায়বিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের সিদ্ধান্তের নির্বাচন।’
এগারো দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘দেশকে বাঁচাতে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। যারা বিদেশি প্রভুর স্বার্থ রক্ষা করে, তাদের আর ভোট দেওয়া যাবে না।’
তিনি জামায়াত নেতা ডা. শফিকুর রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়াতে হবে, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এখন জাতির সামনে একটি প্রশ্ন—আপনারা দুর্নীতিবাজদের ভোট দেবেন, নাকি ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে দাঁড়াবেন?’
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সাত্তার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জামায়াত নেতা নুরে আলম খন্দকার।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘এই নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি দেশের ভবিষ্যৎ ও মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। বাংলাদেশ টিকবে কি টিকবে না—সেই সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আবদুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমীর অ্যাডভোকেট মু. শাহজাহান, কুমিল্লা মহানগরী সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জনসভায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এআরএস

