‘ড. ইউনূস যেদিন লন্ডনে যান, সেদিনই ভোটের ফল চূড়ান্ত হয়ে যায়’
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৯
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য জোট। একই সঙ্গে নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ভোটারদের ওপর হামলার অভিযোগও করেছে তারা।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে ‘সারাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে’ আয়োজিত সমাবেশে জোটের নেতারা এসব অভিযোগ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। বক্তব্য দেন ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল প্রমুখ।
‘ডিপ স্টেট’ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ
মামুনুল হক অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ‘ডিপ স্টেট’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে ব্যবহার করে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। ঢাকা-১৩ আসনে পরাজিত এই প্রার্থী বলেন, সারাদিন সন্দেহপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে সন্ধ্যার পর সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে টার্গেট করা ব্যক্তিদের জাতীয় সংসদে যাওয়ার পথে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর দমন-পীড়ন, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, শারীরিক লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেন তিনি।
‘অনিয়ম করে বিজয় থামিয়ে দেওয়া হয়েছে’
খুলনা-৫ আসনে পরাজিত জামায়াতের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অনিয়ম করে ১১-দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ের বার্তা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেসব আসনে অনিয়মের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় দেশের মানুষ বিস্মিত। “এভাবে ম্যানিপুলেশন করে বিজয়ী হয়েও জাতির ওপর হামলে পড়েছেন। খুন, সন্ত্রাস, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, মা-বোনদের ধর্ষণের দৃশ্য আমাদের আবার ফ্যাসিবাদের চিত্র মনে করিয়ে দিচ্ছে।” বিএনপির বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেট’ করে ‘না’ ভোট দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
‘কড়ায়গণ্ডায় হিসাব বুঝে নেওয়া হবে’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাচ্ছি। কারণ, যারা ভোট ডাকাত, তাদের জনগণের সামনে উন্মোচন করতে পেরেছি। তারা কেবল ভোট চুরি করেনি, ডাকাতি করেছে। সংসদে ভোট ডাকাতরা গেছে। আমরা রাজপথে থাকব। যারা ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে, নতুন করে জুলুম চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের কাছ থেকে কড়ায়গণ্ডায়, ইঞ্চি ইঞ্চি করে হিসাব বুঝে নেব।”
বিএনপিকে ‘ভুল পথ’ থেকে ফেরার আহ্বান
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, “জুলাই আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ্যায়ের পর আমরা আশা করেছিলাম একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়নি। নির্বাচনের আগে ও পরে ভোটারদের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন হয়েছে, বাড়িঘর জ্বালানো হয়েছে। আমরা বড় দলটিকে (বিএনপি) আহ্বান করছি, আপনারা ভুল পথ থেকে ফিরে আসুন।”
‘ম্যানিপুলেশন করে নির্বাচন কলুষিত’
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জাল ভোট, ফলাফল পরিবর্তন এবং ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দিয়ে নির্বাচনকে কলুষিত করা হয়েছে। “এত অধৈর্য হলে রাষ্ট্র কীভাবে চালাবেন? কপালে যে কলঙ্ক লেগেছে, তা দূর করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিন।”
‘২০২৬ সালে হয়েছে ম্যানেজ ভোট’
জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, “২০১৪ সালে হয়েছিল বিনা ভোটের নির্বাচন, ২০১৮ সালে রাতের ভোট, ২০২৪ সালে ডামি ভোট। ভেবেছিলাম ২০২৬ সালে হবে আসল ভোট। কিন্তু ২০২৬ সালে হয়েছে ম্যানেজ ভোট।”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে ‘ম্যানেজ’ করে এই নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে।
‘ফল চূড়ান্ত হয়েছিল সেদিনই’
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, “যেদিন ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে যান, সেদিনই নির্বাচনের ফল চূড়ান্ত হয়ে যায়। তারেক রহমান বাংলাদেশে এসে বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। তাঁর পরিকল্পনা ছিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া।”
সমাবেশ শেষে জোটের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

