বাবা ছিলেন খালেদা জিয়ার মন্ত্রী, ছেলে তারেক রহমানের প্রতিমন্ত্রী
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৭
ইশরাক হোসেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ইশরাক হোসেন। চলতি মাসের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ইশরাক হোসেন পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয়ের কেন্দ্রেই রয়েছে তার বাবা, সাবেক মন্ত্রী ও ঢাকার (অবিভক্ত) মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঢাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি খালেদা জিয়া সরকারের মৎস্য মন্ত্রী ছিলেন। এর আগে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি শেখ হাসিনাকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য হন এবং একই সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ছাত্ররাজনীতি, সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন ও বিএনপির সাংগঠনিক বিস্তারে সাদেক হোসেন খোকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কারাবরণ ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসে চিহ্নিত তার জীবন বিএনপির রাজনীতিতে বিশেষভাবে মূল্যায়িত। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু দলটির জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই সংগ্রামী রাজনৈতিক পরিবেশেই বেড়ে ওঠেন ইশরাক হোসেন। পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তিনি ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ঢাকার স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে থাকেন। বাবার মৃত্যুর পর ইশরাক হোসেন বিএনপির নগর রাজনীতিতে আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে পুরান ঢাকার সাংগঠনিক ভিত্তিতে তার সক্রিয়তা তাকে তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন যারা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আবু জাফর জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আমিনুর রশিদ, আফরোজা রিতা, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কায়সার সাখাওয়াত হোসেন, জাকির আলম, শেখ রবিউল আলম।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন যারা
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মো. আমিনুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

