বছর ঘুরে আবারও এলো পবিত্র মাহে রমজান। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে আনন্দের বার্তা নিয়ে উপস্থিত হয় রমজান মাস। মুমিনের জন্য এ মাস আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ ফজল ও রহমত। রমজানের আগমনে আল্লাহর রহমত লাভের আনন্দের কোনো তুলনা নেই।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “বলো, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায়, সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হোক” (সুরা ইউনুস-৫৮)।
রসুল (সা.) রমজানের আগমনে সাহাবিদের বলতেন, “তোমাদের দ্বারে বরকতময় মাস রমজান এসেছে” (নাসায়ি-২১০৬)। একজন মুমিন বান্দা অধীর আগ্রহ নিয়ে দিন গুনতে থাকেন এ মাসের জন্য। রমজানের প্রতি গভীর আগ্রহ ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নবীজি (সা.) পূর্বের মাসের দিনক্ষণ হিসাব রাখতেন। আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রসুল (সা.) শাবান মাসের দিন-তারিখের হিসাব অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে রাখতেন। (আবু দাউদ, হাদিস: ২৩২৫) তিনি (সা.) তাঁর সাহাবিদেরও নির্দেশ দিতেন, “তোমরা রমজানের জন্য শাবানের চাঁদের হিসাব রাখো” (সিলসিলাতুস সহিহাহ)।
রমজান মাস পাওয়ার জন্য রসল (সা.) নিজেই দুই মাস পূর্ব থেকেই দোয়া করতে থাকতেন। রজব মাসের চাঁদ দেখলে তিনি আল্লাহর দরবারে বলতেন, “হে আল্লাহ! আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দাও এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দাও” (বায়হাকি-৩৫৩৪)।
আজ থেকে রমজান শুরু। আলহামদুলিল্লাহ! আমরা আবারও রমজানে উপনীত হয়েছি। আল্লাহ পাকের কাছে হাজারো শুকরিয়া- তিনি আমাদের এই রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছার হায়াত দান করেছেন। আমাদের পরিচিতদের মধ্যে অনেকেই গত রমজানে ছিলেন, এখন নেই। হয়তো সামনের রমজানে আমরাও থাকবো না। তাই আমাদের কর্তব্য হলো, রমজানের যথাযথ মূল্যায়ন করা। নিজেকে গোনাহমুক্ত করা এবং দুনিয়ার ব্যস্ততা কমিয়ে বেশি বেশি ইবাদতে মশগুল হওয়া।
লেখক : আলেম, সাংবাদিক
বিকেপি/এমবি

