Logo

প্রযুক্তি

এআই নীতিমালার খসড়া প্রকাশ, উদ্ভাবন ও সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৮

এআই নীতিমালার খসড়া প্রকাশ, উদ্ভাবন ও সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ

ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তী সরকার জনমত যাচাই ও পর্যালোচনার জন্য ‘বাংলাদেশ জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালা ২০২৬-৩০’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে। সরকার এই নীতিমালাকে দেশে একটি নিরাপদ, নৈতিক ও উদ্ভাবনবান্ধব এআই পরিবেশ তৈরির ভিত্তি হিসেবে দাবি করলেও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা এর কার্যকারিতা ও নাগরিক সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

খসড়া নীতিমালায় মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে মূলনীতি হিসেবে রাখা হয়েছে। এতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এআই সিস্টেমের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ‘অ্যালগরিদমিক ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’, সোশ্যাল স্কোরিং ও গণনজরদারিতে নিষেধাজ্ঞা এবং ডিপফেক ও অপতথ্য মোকাবিলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। সরকার বলছে, এর মাধ্যমে জনসেবা আধুনিকায়ন ও কৃষি-স্বাস্থ্য খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়বে। এছাড়া দেশীয় উদ্ভাবন উৎসাহিত করতে ২০২৬-৩০ সালের মধ্যে প্রায় ২০০-২৫০ কোটি টাকার একটি ‘এআই ইনোভেশন ফান্ড’ গঠনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় এই খসড়ায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা কানাডার এআই নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর তুলনায় বাংলাদেশের এই খসড়াটি কেবল একটি নীতিগত ঘোষণা মাত্র। এটি কোনো আইন না হওয়ায় বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি বা প্রতিকারের বিষয়টি অস্পষ্ট। এছাড়া এআই ইকোসিস্টেম গড়তে জ্বালানি ও পরিবেশের ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই, যা বাংলাদেশকে কেবল এআই প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হিসেবেই সীমাবদ্ধ করে রাখতে পারে।

খসড়াটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়ার আইন ও উদীয়মান প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ এরশাদুল করিম বলেন, ‘এই খসড়ায় এআই-এর কোনো সংজ্ঞা নেই এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের রূপরেখাও অনুপস্থিত। বিদ্যমান অন্যান্য আইনের সঙ্গে এই নীতিমালার সম্পর্ক নিয়ে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। তাই তাড়াহুড়ো না করে সব পর্যায়ের অংশীদারদের অংশগ্রহণে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটির মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত করা উচিত।’

মানবাধিকারকর্মীদের বড় উদ্বেগের জায়গা হলো রিয়েল-টাইম ফেসিয়াল রিকগনিশন বা প্রেডিক্টিভ পুলিশিংয়ের মতো নজরদারিমূলক প্রযুক্তিতে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকা। তাদের আশঙ্কা, স্বাধীন তদারকি সংস্থা ও স্বচ্ছ আইনি কাঠামোর অভাব ভবিষ্যতে নাগরিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে পারে। যদিও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এই খসড়াটি চূড়ান্ত নয়; সবার মতামতের ভিত্তিতে এটিকে আরও শক্ত ও বাস্তবমুখী করা হবে এবং ২০২৮ সালে এই নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ‘এআই আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর