Logo

প্রযুক্তি

ভুক্তভোগী খোদ প্রযুক্তিপ্রেমীরাই

এআই ব্যবহার করে কাজ সহজ হলো, নাকি বাড়ল মানসিক চাপ?

Icon

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:২২

এআই ব্যবহার করে কাজ সহজ হলো, নাকি বাড়ল মানসিক চাপ?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির প্রতিশ্রুতি ছিল এটি মানুষের কাজের গতি বাড়াবে এবং দৈনন্দিন জীবনের জটিলতা কমিয়ে আনবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টোটি। যারা কর্মক্ষেত্রে সবার আগে আগ্রহ নিয়ে এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছিলেন, এখন তারাই সবচেয়ে বেশি মানসিক অবসাদ বা 'বার্নআউট'-এর শিকার হচ্ছেন। সাম্প্রতিক টেকক্রাঞ্চ-এর এক  প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক তথ্য।

প্রযুক্তির এই নতুন ধাপে আশা করা হয়েছিল, যে কাজ করতে আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত, এআই-এর সহায়তায় তা নিমেষেই শেষ হবে। ফলে কর্মীরা কিছুটা অবসর পাবেন, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য (ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স) উন্নত হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কাজের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কাজের চাপ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এআই ব্যবহারকারীরা দেখছেন তাদের কাজের তালিকা বা 'টু-ডু লিস্ট' ছোট হওয়ার বদলে ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। এআই ব্যবহার করে যখনই কোনো কাজ দ্রুত শেষ হচ্ছে, তখনই সেই ফাঁকা সময়ে আরও নতুন কাজ যুক্ত হচ্ছে। ফলে দুপুরের খাবারের বিরতি থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত সবটুকুই এখন কাজের দখলে চলে যাচ্ছে। প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে কর্মীরা কিছুটা স্বস্তির বদলে উল্টো এক বিরামহীন কর্মচক্রে আটকা পড়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো প্রতিষ্ঠানের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। যখনই কোনো কর্মী এআই ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছেন, তখন কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশাও দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। তারা ধরে নিচ্ছেন, যেহেতু যন্ত্র কাজ করছে, তাই কর্মীর ওপর আরও দায়িত্ব চাপানো সম্ভব। এই 'অলওয়েজ-অন' বা সবসময় কাজের মধ্যে থাকার সংস্কৃতি কর্মীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

এ ছাড়া এআই-এর কাজ তদারকি করাও এক ধরনের মানসিক ক্লান্তির জন্ম দিচ্ছে। এআই হয়তো দ্রুত কনটেন্ট তৈরি করতে পারে, কিন্তু তার নির্ভুলতা যাচাইয়ের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত মানুষের কাঁধেই থাকে। যন্ত্রের আউটপুট প্রতিনিয়ত যাচাই-বাছাই ও সংশোধন করার এই প্রক্রিয়াটি কর্মীদের মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের সৃজনশীলতা ও কর্মস্পৃহা কমিয়ে দিচ্ছে।

শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন। কাজের প্রতি অনীহা বা সিনিসিজম তৈরি হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত সেই উৎপাদনশীলতাকেই ব্যাহত করছে যা বাড়ানোর জন্য এআই-এর ব্যবহার শুরু হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট কাটাতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের কাজের সীমারেখা  নির্ধারণ করতে হবে। এআই মানেই যে বিরামহীন কাজ নয়, বরং মানুষের বিশ্রামের সুযোগ এই মানসিকতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

এমএন

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

প্রযুক্তি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর