Logo

প্রযুক্তি

ইন্টারনেট সুপারহাইওয়েতে বাংলাদেশ : ৫জি বিপ্লব ও আমাদের আগামী দিন

মোহাম্মদ নেসার

মোহাম্মদ নেসার

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:২৮

ইন্টারনেট সুপারহাইওয়েতে বাংলাদেশ : ৫জি বিপ্লব ও আমাদের আগামী দিন

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে মুভি ডাউনলোডের বোতাম টিপলেন আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেটি ডাউনলোড হয়ে গেল। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এই দৃশ্য এখন বাংলাদেশের মানুষের জন্য বাস্তব হতে শুরু করেছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া ৫জি প্রযুক্তির বাণিজ্যিক যাত্রা ধীরে ধীরে - ধীর গতির ইন্টারনেটের গ্লানি মুছে দেশের যোগাযোগ মাধ্যমকে নিয়ে যাচ্ছে এক উচ্চগতির যুগে।

এক নজরে বর্তমান অবস্থা

দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটা ইতোমধ্যে বিভাগীয় শহরগুলোতে ৫জি সেবা চালু করেছে। ঢাকার বসুন্ধরা, গুলশান, মতিঝিল থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কিংবা সিলেটের জিন্দাবাজার শহুরে জীবনের ব্যস্ততম এলাকাগুলো এখন ৫জি তরঙ্গের আওতায় এসেছে। ৪জি'র তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি গতি নিয়ে আসা এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল অভিজ্ঞতাকে বদলে দিতে শুরু করেছে।

কেন এই ৫জি নিয়ে এত শোরগোল?

৪জি'র সাথে ৫জি'র তুলনা করতে গেলে একে স্রেফ গতি বৃদ্ধি বললে ভুল হবে। এটি মূলত একটি প্রযুক্তিগত রূপান্তর।

  • গড়পড়তা থেকে সুপারফাস্ট : যেখানে ৪জি-তে একটি বড় ফাইল ডাউনলোড করতে মিনিটের পর মিনিট অপেক্ষা করতে হতো, ৫জি-তে তা হচ্ছে চোখের পলকে।
  • গেমিং ও ভিডিও: অনলাইন গেমারদের জন্য ৫জি এক আশীর্বাদ। কোনো ল্যাগ বা ধীরগতি ছাড়াই এখন লাইভ স্ট্রিম বা হাই-গ্রাফিক্স গেম খেলা সম্ভব হচ্ছে।
  • ভিড়ের মাঝেও নিরবচ্ছিন্ন : স্টেডিয়াম বা কনসার্টের মতো জনাকীর্ণ জায়গায় ৪জি নেটওয়ার্ক জ্যাম হয়ে গেলেও ৫জি ইন্টারনেট সচল থাকছে অনায়াসেই।

পরিবেশ ও স্বাস্থ্য : গুজব বনাম বিজ্ঞান

৫জি নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন আর শঙ্কাও রয়েছে। ইন্টারনেটে মাঝেমধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে যে ৫জি তরঙ্গ পাখি মেরে ফেলছে কিংবা পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। তবে বৈজ্ঞানিক তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্তর্জাতিক রেডিও সুরক্ষা সংস্থাগুলোর (ICNIRP) মতে, ৫জি-তে ব্যবহৃত 'নন-আয়োনাইজিং' রেডিয়েশন মানুষের ডিএনএ বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে এমন অকাট্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বরং ৫জি'র ডাটা ট্রান্সফার পদ্ধতি আগের চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

৫জি'র এই সুবিধা নিতে হলে গ্রাহকের প্রয়োজন একটি ৫জি সমর্থিত স্মার্টফোন। যদিও বাংলাদেশের বাজারে এখন সাশ্রয়ী মূল্যে ৫জি ফোন আসতে শুরু করেছে, তবুও দেশের প্রতিটি প্রান্তে এই সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং অবকাঠামো উন্নয়ন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫জি কেবল দ্রুত গতির ইন্টারনেটই দেবে না, এটি স্মার্ট সিটি, চালকবিহীন গাড়ি এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার (টেলিমেডিসিন) পথ প্রশস্ত করবে।

বাংলাদেশ এখন ইন্টারনেটের এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে। যদিও এটি বর্তমানে বড় শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ, তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এর সুফল দেশের আনাচে-কানাচে পৌঁছে যাবে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে কম্পানিগুল।

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

প্রযুক্তি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর