সৌদি আরবে হবে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেনের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বৈঠক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৫, ১১:৫৬
সৌদি আরবে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এটি একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক’ হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি সৌদি আরবে থাকলেও আলোচনায় অংশ নেবেন না। কিয়েভ দ্রুত ও স্থায়ী শান্তি অর্জনের জন্য কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, মার্কিন দলটি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ নিয়ে আলোচনা করতে চায়। যাতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানো যায়।
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা দেয়। ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করার জন্য প্রস্তুত নন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা স্থগিত করে ও গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ রাখে।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছেন। কারণ ওয়াশিংটন ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় সামরিক সহায়তাকারী।
বৃহস্পতিবার উইটকফ জানান, ট্রাম্প জেলেনস্কির কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন, যাতে ‘দুঃখপ্রকাশ’ ও ‘কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আশা করি, ইউক্রেনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হবে। সব কিছু পুনরায় চালু হবে।’
যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার আগে ইউক্রেনের ওপর ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। অন্যদিকে কিয়েভের জন্য কঠোর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাইছেন জেলেনস্কি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌদি আরবে আসন্ন আলোচনা সম্পর্কে ঘোষণা দেন।
তিনি ‘এক্স’-এ লেখেন, ‘ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। আশা করছি, আগামী সপ্তাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। যুদ্ধের প্রথম মুহূর্ত থেকেই ইউক্রেন শান্তি চেয়েছে। আমরা সবসময় বলেছি, যুদ্ধ শুধুমাত্র রাশিয়ার কারণেই চলছে।’
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা মস্কোর ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করে। যাতে রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।
তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের প্রতিও ইঙ্গিত দেন। ওই পরিকল্পনায় আকাশ ও সমুদ্রে যুদ্ধবিরতি এবং জ্বালানি ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের কথা বলা হয়েছে।
রাশিয়া এখন পর্যন্ত এই ফরাসি প্রস্তাবের ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, মস্কো এমন একটি শান্তি চায় যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
পুতিন বলেন, ‘আমরা অন্যের কিছু চাই না। তবে আমাদের যা আছে, তা ছেড়ে দেব না।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, তিনি আশা করেন এমন একটি ‘ন্যায়সঙ্গত, স্থায়ী ও বাধ্যতামূলক শান্তিচুক্তি হবে যা সব পক্ষ গ্রহণ করতে পারবে।’
২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে। আরও চারটি দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনীয় অঞ্চলকে নিজেদের দাবি করে, যদিও মস্কো এসব অঞ্চল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।
সম্প্রতি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্ররা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ ইউরোপে অনেকেই মনে করছেন যে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত মাসে সৌদি আরবে মার্কিন-রুশ প্রাথমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইউরোপীয় বা ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি ছিলেন না।
যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা কিয়েভকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনায় সহযোগিতার জন্য চাপ প্রয়োগের একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। তবে মস্কোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সমান্তরাল চাপ প্রয়োগের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি।
বিবিসি/ওএফ

