ছুটি দেয়নি স্কুল, স্যালাইনের বোতল সঙ্গে নিয়েই ক্লাসে হাজির শিক্ষক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৫, ১৫:২০
অসুস্থতার ছুটি দেয়নি স্কুল, স্যালাইনের বোতল সঙ্গে নিয়েই ক্লাসে হাজির শিক্ষক | ছবি : সংগৃহীত
গুরুতর অসুস্থ, তাই প্রধান শিক্ষকের কাছে ছুটি চেয়েছিলেন এক সহকারী শিক্ষক। তবে প্রধান শিক্ষক ছুটি মঞ্জুর করেননি, উল্টো তাকে ক্লাসে থাকার নির্দেশ দেন। ফলে বাধ্য হয়ে হাতে স্যালাইন চলা অবস্থাতেই ক্লাসে হাজির হন ওই শিক্ষক। সম্প্রতি ভারতের ওড়িশার একটি স্কুলে এই ঘটনা ঘটেছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওড়িশার বোলাঙ্গি জেলার অসুস্থ ওই শিক্ষকের নাম প্রকাশ ভৈ। স্কুলে গণিত পড়ান তিনি। দাদার শেষকৃত্য শেষে অসুস্থ হয়ে পড়েন এই শিক্ষক। তাই দু’দিনের জন্য ছুটি চেয়ে প্রধান শিক্ষক বিজয়লক্ষ্মী প্রধানের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ছুটি দেননি বলে অভিযোগ তার।
তাই বাধ্য হয়ে এক হাতে স্যালাইনের বোতল অন্য হাতে স্যালাইনের চ্যানেল— এ অবস্থাতেই ক্লাস করতে হাজির হন তিনি। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে নেট দুনিয়ায়।
ভারতীয় এক টিভিকে প্রকাশ বলেন, ‘দাদুর শেষকৃত্যের পর অসুস্থবোধ করি। প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়ে ছুটির আবেদন করি। কিন্তু তিনি জেলা শিক্ষা আধিকারিক এবং জেলা প্রকল্প সহায়কের অফিসে দেখা করে অসুস্থতার কথা জানাতে বলেন। সেখানে যাওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না। শারীরিক এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম।’
প্রকাশের দাবি, বাধ্য হয়েই কোনো রকমে জেলা প্রকল্প সহায়কের অফিসে পৌঁছান তিনি। দুপুরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে যাওয়ার অনুমতি নিতে হয় তাকে। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার কথা জিজ্ঞাসা না করে দুপুর ২টার মধ্যে চিকিৎসা করিয়ে স্কুলে ফিরতে পারবেন কি না, জিজ্ঞাসা করা হয়।
কিন্তু সরকারি হাসপাতাল অনেকটা দূরে ছিল। ওই সময়ের মধ্যে স্কুলে ফেরা সম্ভব হত না বলে জানিয়েছেন প্রকাশ। তার কাছে বেশি টাকাও ছিল না যে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাবেন। তার ইউপিআই-ও কাজ করছিল না। শেষমেশ এক চিকিৎসককে দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ে স্কুলে ফেরেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই অবস্থাতেই কাজ করতে হয় বলে অভিযোগ। পরদিন সকালে স্থানীয় এক ক্লিনিকে দেখিয়ে স্যালাইনের বোতল সঙ্গে নিয়ে স্কুলে হাজির হন তিনি। তাকে ওই অবস্থাতেই ক্লাস করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও পরে তার সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এখনো।
এটিআর/

