ছবি : রয়টার্স
আংশিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর ৩০ দিনের জন্য হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৯ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৩০ দিনের আংশিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন পুতিন। তবে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেননি এই প্রেসিডেন্ট।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত রাশিয়ার জন্য সময় নেওয়ার কৌশল হতে পারে, কারণ রুশ বাহিনী বর্তমানে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে অগ্রসর হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরও বিস্তৃত আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে। তবে আলোচনায় ইউক্রেনের ভূমিকা কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মধ্যপ্রাচ্যে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে কৃষ্ণসাগরে নৌবাহিনীর যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হওয়ার বিষয়ে পুতিনের যুক্তি, এতে ইউক্রেন নতুন করে সেনা সংগ্রহ ও অস্ত্র মজুদ করার সুযোগ পাবে। তিনি আবারও দাবি করেন, ইউক্রেনকে দেওয়া সব সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তার দেশ ৩০ দিনের জন্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখার প্রস্তাবে রাজি। তবে তিনি দাবি করেন, রাশিয়া মঙ্গলবার রাতেই ৪০টির বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যেখানে সুমি অঞ্চলের একটি হাসপাতালসহ কিয়েভের আশপাশের এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ পুতিন আসলে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত পুতিনের যুদ্ধে সময় নষ্ট করার এই কৌশল প্রত্যাখ্যান করা।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এই আংশিক সমঝোতা কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। রাশিয়া এর আগেও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সময় নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে।
এটিআর/

