জাপান, চীন ও দ.কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক টেবিলে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৫, ০৮:৫৪
পূর্ব এশিয়ার তিন দেশ জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা টোকিওতে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। পূর্ব এশিয়ার এই প্রতিবেশী দেশগুলো ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে সমঝোতার পথ খুঁজছে।
শনিবার বৈঠকের শুরুতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকেশি ইওয়াইয়া, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো তে-ইয়ুল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার শুরুতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। আমি বিশ্বাস করি আমরা ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছি। এমন পরিস্থিতিতে বিভাজন ও সংঘাত দূর করে সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৩ সালের পর এই প্রথমবারের মতো তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেছেন। বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরীক্ষিত মিত্রদের নীতিতেও পরিবর্তন আনছেন। বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে বাণিজ্য বিষয়ক নানা বিষয়ে আলোচনা হবে। গত বছর সিউলে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ধারাবাহিকতায় একটি ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের পথ সুগম করতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো তে-ইয়ুল বলেন, কোরিয়ান উপদ্বীপের শান্তি ও নিরাপত্তা পূর্ব এশিয়া এবং বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধির অপরিহার্য শর্ত। আমি আশা করি, আজকের আলোচনায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময় হবে।
এ বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই উল্লেখ করেন যে, চীন যুদ্ধ চলাকালে জাপানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, আর কোরিয়ান উপদ্বীপ ছিল জাপানের উপনিবেশ।
তিনি বলেন, আমাদের তিন দেশের উচিত ইতিহাসের প্রতি সঠিক দৃষ্টি রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং পূর্ব এশিয়ার সহযোগিতা জোরদার করা।
সিউল ও টোকিও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। এই দুই দেশেই হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। এদিকে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনকে তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে।
তাকেশি ইওয়াইয়া আলাদাভাবে চীনা ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর মধ্যে চীনের সঙ্গে ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক সংলাপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই সংলাপে ২০২৩ সাল থেকে ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নিষ্কাশিত বর্জ্য পানি সমুদ্রে ফেলায় চীন কর্তৃক জাপানি সামুদ্রিক খাদ্য আমদানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কেও আলোচনা হবে বলে ইওয়াইয়া জানান।
ওএফ

