নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হামাসের সম্মতি, পাল্টা প্রস্তাব ইসরায়েলের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ১১:১২
মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারীদের পূর্ণ সহযোগিতায় পাল্টা প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল।
তবে নিজেদের পাল্টা প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। শনিবার (২৯ মার্চ) তারা জানিয়েছে, শুক্রবার আলাপ-আলোচনার পরেই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি, একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহারের বিনিময়ে অবশিষ্ট জিম্মিদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হামাস।
নড়বড়ে অস্ত্রবিরতি চুক্তিকে পুনর্বহাল করতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল মিসর। যদিও তার আগেই গাজায় নতুন করে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এতে কেবল ১৮ মার্চেই চার শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের বেশির ভাগই নারী-শিশু।
হামাসের নেতা খলিল আল-হাইয়া নতুন যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার আগে তাতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কিনা; তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
মিসরের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, জীবিত থাকা পাঁচ জিম্মিকে ছেড়ে দেবে হামাস। যাদের মধ্যে একজন আমেরিকান-ইসরায়েলিও রয়েছেন। বিনিময়ে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেবে ইসরায়েল। সামরিক আগ্রাসনও সপ্তাহখানেকের জন্য বিরতি দেবে দখলদার বাহিনী। এছাড়া কয়েক শ ফিলিস্তিনি বন্দিকেও মুক্তি দেওয়ার কথা বলেছিল তারা।
হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের ২৪ জন এখনো জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের ছেড়ে দেওয়া না হলে যুদ্ধ তীব্রতর করার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়াও ইসরায়েলের শর্তের মধ্যে ছিল—হামাসকে নিরস্ত্র হতে হবে, গাজার ক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং তাদের নেতাদের দেশের বাইরে নির্বাসনে পাঠাতে হবে।
শনিবার মিসর সীমান্তের কাছাকাছি রাফাহ শহরে স্থল অভিযান প্রসারিত করেছে ইসরায়েল।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধ শুরু হয়। তখন এক হাজার ২০০ ইসলাইলিকে হত্যা করেছিল হামাস। পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। পরে ইসরায়েলি হামলায় ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন।
ডিআর/বিএইচ

