Logo

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলি বোমা ও খাদ্য সংকট নিয়েই গাজায় ‘বেদনা’র ঈদ

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৫, ২২:৩৩

অ
ইসরায়েলি বোমা ও খাদ্য সংকট নিয়েই গাজায় ‘বেদনা’র ঈদ

গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিরা এবারের ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য কিছুই খুঁজে পাননি। কারণ খাদ্য সরবরাহ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, আর ইসরায়েলি হামলার কোনো শেষ দেখা যাচ্ছে না।

রোববার রমজানের সমাপ্তি উপলক্ষে ঈদের নামাজ আদায়ের সময় অন্তত ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া মসজিদের সামনে অনেকেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।  

ঈদুল ফিতর মূলত আনন্দের উৎসব। যেখানে পরিবার-পরিজন একত্রিত হয়। শিশুরা নতুন পোশাক পরে। আর ঘরে ঘরে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। কিন্তু গাজার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি এখন শুধু বেঁচে থাকার লড়াই করছেন।  

মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের বাসিন্দা আদেল আল-শায়ের বলেন, এটা বেদনার ঈদ। 

খোলা আকাশের নিচে ঈদের নামাজ পড়ে এসে তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছি, আমাদের সন্তানদের, আমাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ হারিয়েছি। আমরা আমাদের ছাত্র-ছাত্রী, আমাদের স্কুল, আমাদের প্রতিষ্ঠান—সবকিছু হারিয়েছি।

তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, ইসরায়েলি হামলায় তার পরিবারের ২০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকদিন আগেই চারজন ছোট ভাতিজা-ভাগিনা।  

গত ১৮ মার্চ ইসরায়েল দুই মাসের এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আকস্মিকভাবে বাতিল করে গাজায় আবারো ভয়াবহ বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে শত শত ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। টানা চার সপ্তাহ ধরে গাজায় কোনো খাদ্য, জ্বালানি বা মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।  

আরব মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার হামাস জানায়, তারা মিশর ও কাতারের একটি নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যদিও এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, ইসরায়েল জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় নিজেদের একটি প্রস্তাব দিয়েছে।  

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের গণহত্যায় এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ওএফ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন