চীনা পণ্যে আরও ৫০ শতাংশ শুল্কারোপের হুমকি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ১০:২৪
গত সপ্তাহে ট্রাম্প সকল চীনা পণ্যে ৩৪ শতাংশ কর বসান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার জবাবে চীনও সব ধরনের মার্কিন পণ্যে ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। চীনের এ পদক্ষেপের পর ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি পণ্যের পাল্টা শুল্ক চীন প্রত্যাহার না করে, তবে তিনি অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। ইতোমধ্যে এই উত্তেজনা বিশ্ববাজারে ধস নামিয়েছে।
সোমবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে চীনকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় দেন এই পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য, না হলে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকি দেন।
এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অর্থনৈতিক দাদাগিরি’ করার অভিযোগ এনে জানায়, বেইজিং তাদের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করবে।
যদি ট্রাম্প তার হুমকি কার্যকর করেন, তবে ইতোমধ্যে মার্চ মাসে আরোপিত ২০ শতাংশ ও গত সপ্তাহের ৩৪ শতাংশ শুল্কের সাথে মিলিয়ে চীনা পণ্যে মোট ১০৪ শতাংশ শুল্ক বসবে, যা আমেরিকান কোম্পানিগুলোর জন্য বিশাল ধাক্কা হবে।
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে এই শুল্ক যুদ্ধ আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, চীনের অনুরোধে আমাদের সঙ্গে যেকোনো বৈঠকের আলোচনা এখানেই শেষ!
একই দিন হোয়াইট হাউজে তিনি জানান, অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ দিতে তিনি শুল্ক কমানোর কথা ভাবছেন না।
ট্রাম্প বলেন, চীন পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। যদিও আমি আগেই সতর্ক করেছিলাম যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক বসানো হলে, তার জবাবে আরও বড় শুল্ক বসানো হবে।
চীন এই প্রতিক্রিয়ায় বলে, চীনকে চাপে রাখা বা হুমকি দেওয়ার কোনো গ্রহণযোগ্য কৌশল নয়।
চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা ও আত্মকেন্দ্রিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিয়মকে উপেক্ষা করে কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে। এটি এক ধরনের অর্থনৈতিক দাদাগিরি।
হোয়াইট হাউজ থেকে ট্রাম্প আরও বলেন, শুল্ক স্থায়ী হতে পারে এবং একই সাথে আলোচনা চলতেও পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা ভালো ও ন্যায্য চুক্তি করতে যাচ্ছি।
এই শুল্ক আরোপ চীনের নির্মাতাদের জন্য বড় ধাক্কা হবে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র তাদের একটি প্রধান রফতানি বাজার।
চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া উল্লেখযোগ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে— বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, আসবাবপত্র, খেলনা, যানবাহন ও যন্ত্রাংশ। আর যুক্তরাষ্ট্র চীনে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে তেলবীজ ও শস্যজাত পণ্য, বিমান, যন্ত্রপাতি ও ওষুধ।
এই শুল্ক-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে।
বিশ্বের বাজারগুলো ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকে হু হু করে নিচে নেমে গেছে। সোমবার মার্কিন স্টক মার্কেট খোলার পর তা আবারও বড় ধসের মুখে পড়ে, আর ইউরোপের প্রধান বাজারগুলো— যেমন লন্ডনের এফটিএসই১০০ — ৪ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে।
এশিয়ার বাজারেও সোমবার ব্যাপক পতন হয়। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ১৩ শতাংশের বেশি পড়ে যায়, যা ১৯৯৭ সালের পর সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন। তবে মঙ্গলবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
এই শুল্কের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, জার্মানির ডিএএক্স ও জাপানের নিক্কেই সূচকেও।
আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ
ট্রাম্পের সোমবারের পোস্টে আরও জানানো হয়, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শুল্ক আলোচনার কাজ তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে।
ওই দিন ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। নেতানিয়াহু বলেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য দ্রুত সমাধান করবে। শুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করবে। ইসরায়েলকে ৯ এপ্রিল থেকে ১৭ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে হবে।
এর আগে ট্রাম্প জানান, জাপান একটি আলোচনাকারী দল পাঠাচ্ছে শুল্ক নিয়ে আলোচনা করতে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ট্রাম্পকে একটি ‘জিরো টু জিরো ট্যারিফ’ চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও এর আগে তিনি পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছিলেন।
তিনি বলেন, আমরাও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত, আমাদের স্বার্থ রক্ষায় যা দরকার তাই করব।
এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তৈরি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্ষতি করার উদ্দেশে।
বিবিসি/ওএফ

