গাজা প্রসঙ্গে এরদোয়ান
ইসলামী বিশ্ব তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৪১
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোয়ান জোরালোভাবে হারাম আল শরীফে ইসরায়েলি কার্যক্রমের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আল-আকসা মসজিদ ও এর আশপাশের পুরো এলাকা একান্তভাবে মুসলমানদের। এর পবিত্রতা ও ঐক্য রক্ষা করা আবশ্যক।
শুক্রবার ইস্তাম্বুলে তৃতীয় আন্তর্জাতিক ইয়েদিতেপে বিয়েনালের এক ভাষণে এরদোয়ান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আল-আকসা ও কুববাত আস-সাখরাসহ (ডোম অফ দ্য রক) হারাম আল শরীফ ১৪৪ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এটি কেবল মুসলমানদের সম্পদ। আমরা কাউকে এর পবিত্রতা নষ্ট করতে দেব না।
তিনি বলেন, আল-আকসা তুরস্কের জন্য ‘রেড লাইন’ (যার লঙ্ঘন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না)।
তিনি ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা অবিলম্বে সকল উস্কানি, হামলা ও পবিত্র স্থানটির একত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ বন্ধ করে।
এরদোয়ান বলেন, আমাদের অঞ্চলজুড়ে যেকোনো নিপীড়নের বিরুদ্ধে তুরস্ক কখনো চুপ থাকেনি। এবারও থাকবে না।
ফিলিস্তিনকে রক্ষা মানে মানবতা, শান্তি ও ন্যায়বিচারকে রক্ষা
এরদোয়ান একই দিন ফিলিস্তিন সংহতিতে আয়োজিত সংসদীয় একটি বৈঠকে বলেন, গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নীরবতা এক ‘নৈতিক বিপর্যয়’।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানো মানে কেবল নিপীড়িত এক জাতির পাশে দাঁড়ানো নয়, বরং এটি মানবতা, শান্তি ও ন্যায়বিচার রক্ষার লড়াই।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৫১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এরদোয়ান এই হামলাকে ‘নির্বিচার সহিংসতার উন্মাদনা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘শিশু, নারী, বৃদ্ধ — এমনকি নবজাতকদেরও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা নিহত হচ্ছেন, অথচ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নীরব। শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, অথচ মানবাধিকারকর্মীরা নীরব দর্শক।’
পশ্চিমা বিশ্ব দেখছে, শুনছে কিন্তু বলছে না
এরদোয়ান পশ্চিমা বিশ্বের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে বলেন, যারা মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আর আইন নিয়ে অহংকার করে, তারা গত ১৮ মাস ধরে এই হত্যাযজ্ঞের সামনে চোখ-মুখ-কান বন্ধ করে রেখেছে।
তিনি বলেন, যে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো সাধারণ ঘটনাতেও অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তারা এখন কোথায় — যখন কথা বলার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন?
এরদোয়ান সতর্ক করে বলেন, একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থা, যা নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়ায় না, সেটি অত্যাচারীদের কাছে খেলনার মতো।
তিনি ইসলামী বিশ্বের নীরবতা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমার কষ্টের কথা বলতে হচ্ছে —ইসলামী বিশ্ব তার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত গাজায় ২১২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, মাত্র কয়েকদিন আগেই, একজন নারী সাংবাদিককে তার পরিবারের ১০ সদস্যসহ শহীদ করা হয়েছে — শুধুমাত্র সত্য বলার অপরাধে।
ক্ষুধাকে অস্ত্র বানানো হয়েছে, প্রতিরোধকে বলা হচ্ছে সন্ত্রাস
তিনি ইসরায়েলের অবরোধকে ‘হত্যার বিকল্প কৌশল’ উল্লেখ করে বলেন, ‘যাদের বোমা দিয়ে মারা যাচ্ছে না, তাদের খাবার, পানি ও ওষুধ বন্ধ করে দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা গণহত্যার সময় নীরব ছিল, এখন তারাই গাজার প্রতিরোধকে সন্ত্রাস আখ্যা দিচ্ছে — যেন গণহত্যা স্বাভাবিক বিষয়।
মধ্যপ্রাচ্য জ্বলছে, বিশ্ব ঝুঁকিতে
সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, নেতানিয়াহুর সরকার মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি চায় না।
তিনি বলেন, এই উন্মত্ততা পুরো অঞ্চলকে অশান্ত করছে —যারা এই আগুন জ্বালাচ্ছে, তারা শীঘ্রই নিজেরাই দগ্ধ হবে।
আমরা ফিলিস্তিনের পাশে থাকব — একা হলেও
তিনি স্পষ্ট বলেন, যেকোনো প্রস্তাব, যার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের তাদের পূর্বপুরুষদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা — তা আমাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, তুরস্ক সব সময় ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজ ভূমিতে স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকার আদায়ে পাশে থাকবে। আমরা একা হলেও, ফিলিস্তিনের পক্ষে আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসব না।
ওএফ

