Logo

আন্তর্জাতিক

সিন্ধু পানিচুক্তি বাতিলসহ কড়া পদক্ষেপ ভারতের

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৪২

অ
সিন্ধু পানিচুক্তি বাতিলসহ কড়া পদক্ষেপ ভারতের

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তগ্রহণকারী সংস্থা ‘ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি’ (সিসিএস) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে ঘটে যাওয়া বর্বর জঙ্গি হামলার তদন্তে ‘সীমান্তের অপরপাশ থেকে যোগাযোগ’ থাকার তথ্য উঠে আসার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন বিদেশি নাগরিকও ছিলেন।

১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তি ১৯৬৫, ১৯৭১ ও ১৯৯৯ সালের যুদ্ধ সত্ত্বেও কার্যকর ছিল। তবে এবার তা স্থগিত করা হলো। 

পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, সিসিএসে যে ব্রিফিং দেওয়া হয়েছিল, তাতে এই হামলার পেছনে পাকিস্তান থেকে যোগাযোগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এই হামলা এমন এক সময়ে হয়েছে যখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে অর্থনৈতিক উন্নতির পথও প্রশস্ত হচ্ছে।’

সিসিএস তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলো হলো—  

>> ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত থাকবে যতক্ষণ না পাকিস্তান তার সীমানা পেরিয়ে সন্ত্রাসে মদদ দেওয়ার কার্যকলাপ অপরিবর্তনীয় ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে পরিত্যাগ করে।

>> অটারি-ওয়াঘা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যারা বৈধ কাগজপত্রে এই পথে ভারতে প্রবেশ করেছেন তারা আগামী ১ মের পাকিস্তান ফিরে যেতে পারবেন।

>> পাকিস্তানি নাগরিকদের সার্ক ভিসার আওতায় ভারতে প্রবেশের অনুমতি আর থাকবে না। পূর্বে যাদের এই ভিসা দেওয়া হয়েছে, তা বাতিল বলে গণ্য হবে। বর্তমানে যারা এই ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন, তাদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ত্যাগ করতে হবে।

 >> নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানি হাইকমিশনে নিযুক্ত নৌ ও বিমান উপদেষ্টাদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ (অপছন্দের ব্যক্তি) ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে ভারত ছাড়তে হবে। একইভাবে, ভারতের ইসলামাবাদ হাইকমিশন থেকেও ভারতীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা প্রত্যাহার করা হবে। উভয় হাইকমিশন থেকে প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট পাঁচজন সহকারী স্টাফকেও অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে।

>> উভয় হাইকমিশনের মোট জনবল ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০ জনে নামিয়ে আনা হবে। আগামী ১ মের মধ্যে কার্যকর হবে।

পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান, সিসিএস সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে ও সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। হামলাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। যারা এই হামলার মদদদাতা তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে। তাহাউর রানার প্রত্যর্পণের মতো ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার পদক্ষেপে আপসহীন থাকবে।

ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রী সি.আর. পাটিল ইন্দাস চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এর আগেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পাকিস্তানকে আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। আগেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এবারও অপরাধীরা রেহাই পাবে না। ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তটি খুবই সময়োপযোগী ও সঠিক।

সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিতের কারণ
১৯৬০ সালের সিন্ধু পানিচুক্তি অনুসারে, ভারত ও পাকিস্তানের ছয়টি অভিন্ন নদী ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রবি, বেয়াস ও শতদ্রু নদীর উপর ভারত পূর্ণ অধিকার পায়। আর সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর পানি পাকিস্তান ব্যবহারের অধিকার পায়।

এই চুক্তি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। এটি দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সহযোগিতার একমাত্র সফল উদাহরণ হিসেবে গণ্য।

২০১৯ সালে পুলওয়ামায় আধাসামরিক বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলার পরও প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন, ‘রক্ত ও পানি একসাথে প্রবাহিত হতে পারে না।’

তবে তখন এই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়নি।

কিন্তু ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নামে একটি উগ্রবাদী সংগঠন কাশ্মীরে ২৬ পর্যটক হত্যার দায় স্বীকার করার পর এবার ভারত পানিচুক্তি স্থগিতের কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

পাকিস্তানে পানিসংকট ইতোমধ্যেই প্রকট আকার ধারণ করেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্বল পানিব্যবস্থাপনার কারণে দেশটি মারাত্মক পানিসংকটের মুখোমুখি হতে পারে বলে বহু বিশেষজ্ঞ পূর্বেই সতর্ক করেছেন।

ইতোপূর্বে ভারত যদি এই চুক্তি থেকে সরে আসে, তবে পাকিস্তান এটিকে ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ হিসেবে দেখবে বলে জানিয়েছিল।

এবারের সিদ্ধান্ত ভারতের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হতাশার প্রতিফলন—পাকিস্তান ‘সন্ত্রাসকে রাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে’ ব্যবহার করছে, এই অভিযোগেরই বহিঃপ্রকাশ।

পাকিস্তানিদের জন্য সার্ক ভিসা বাতিল
সার্ক ভিসা এক্সাপশন স্কিম (এসভিইএস) একটি ভিসামুক্ত ভ্রমণ কর্মসূচি। এতে ২৪ শ্রেণির মানুষ, যেমন— উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, উচ্চ আদালতের বিচারপতি, সাংবাদিক, খেলোয়াড়, ব্যবসায়ী প্রমুখ বিশেষ অনুমতি নিয়ে সার্ক দেশগুলোর মধ্যে ভ্রমণ করতে পারেন।

তবে এখন থেকে পাকিস্তানি নাগরিকদের এই সুবিধা আর প্রযোজ্য নয়।

ওএফ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন