গাজার খাদ্য গুদামে বোমা হামলায় রিপাবলিকানদের সমর্থন : বেন-গভির
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিয়ষকমন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান নেতারা গাজায় ‘খাদ্য ও ত্রাণের গুদামে বোমা হামলার পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন।
বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় হিব্রু ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-আ-লাগোতে তিনি রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বেন-গভির লিখেছেন, ‘তারা গাজায় কীভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে আমার সুস্পষ্ট অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, আমাদের জিম্মিদের নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ তৈরির অংশ হিসেবে গাজায় খাদ্য ও ত্রাণ গুদামগুলোতে বোমা হামলা করা উচিত।’
জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।
বেন-গভির তার পোস্টে কোন কোন রিপাবলিকান নেতা উপস্থিত ছিলেন, তা স্পষ্ট করেননি। তবে তার দপ্তর ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদধারী নেতা কংগ্রেসম্যান টম এমার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
টাইমস অব ইসরায়েল ও জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেটসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বেন-গভিরের দপ্তরের বরাতে এমারের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। একটি ভিডিওতেও তার উপস্থিতির প্রমাণ দেখা গেছে।
কংগ্রেসম্যান এমার গাজা যুদ্ধের সময় থেকে ইসরায়েলের পক্ষে অন্যতম সোচ্চার কণ্ঠ। তিনি বরাবরই দাবি করে আসছেন, গাজায় বেসামরিক হতাহতের জন্য দায়ী হামাস, ইসরায়েল নয়।
তবে মার-আ-লাগোতে ওই বৈঠক ও বেন-গভিরের অবস্থানের প্রতি এমার আদৌ সমর্থন জানিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে আল জাজিরার পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও তার মুখপাত্র কোনো উত্তর দেননি।
যুদ্ধের বর্তমান প্রেক্ষাপট
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলার পর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫১ হাজার ৩০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ওই হামলায় ইসরায়েলে এক হাজার ১৩৯ জনের মৃত্যু ঘটে।
বেন-গভির গাজায় হামলা জোরদারের অন্যতম প্রবক্তা। তিনি পশ্চিমতীরে অবস্থিত একটি অবৈধ ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দা এবং প্রকাশ্যে গাজা পুনর্বাসনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাকেও প্রশংসা করেছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রতিবাদে তিনি নেতানিয়াহুর সরকার থেকে পদত্যাগ করেন। তবে মার্চ মাসে তিনি পুনরায় সরকারে ফিরে আসেন এবং গাজায় বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ বন্ধ ও খাবারের গুদামে বোমা হামলার আহ্বান জানান।
গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতির শেষে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৯২৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় এলে এই যুদ্ধের অবসান ঘটাবেন। যদিও এখনো একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির চুক্তি কার্যকর হয়নি।
এদিকে, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে গাজায় খাবার, ওষুধ ও ত্রাণ সরবরাহে ইসরায়েলি বাধার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
তারা এসব পদক্ষেপকে সহ্য করার মতো নয় বলে অভিহিত করেছেন।
ওএফ

