Logo

আন্তর্জাতিক

জবাব দেবে ইসলামাবাদ

প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে দায়ী করছে ভারত

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৫১

অ
প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে দায়ী করছে ভারত

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারতের কঠোর প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বৈঠকে বসছে। এই বৈঠকে ভারতের একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের বিশ্লেষণ ও তার জবাবে পাকিস্তানের নীতিগত অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

ভারতের ঘোষিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করা। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক চুক্তি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে তিনটি যুদ্ধের সময়ও কার্যকর ছিল। এই চুক্তি স্থগিত করাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া ভারত আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত পথ বন্ধ করে দিয়েছে এবং পাকিস্তানকে ‘সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা’ হিসেবে দায়ী করে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক চাপ জোরদার করেছে।

তবে ইসলামাবাদ এই হামলায় নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

বার্তা দেবে পাকিস্তান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বৃহস্পতিবার সকালেই জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক ডেকেছেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, ভারত সরকারের আজকের বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

এক বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে দার ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়াকে ‘অপরিণত’ ও ‘পূর্বপরিকল্পিত উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘ভারত কোনো প্রমাণ দেয়নি। এ ধরনের হঠকারী প্রতিক্রিয়া অনভিপ্রেত।’

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে হামলায় নিহতদের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছে, ‘ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলায় পর্যটকদের উপর হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।’

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রতিক্রিয়া ও পাকিস্তানের পাল্টা অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত হওয়া ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী বিরোধের জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত হওয়ায় ভবিষ্যতে উত্তেজনা প্রশমনের পথও কঠিন হয়ে উঠবে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, পাহেলগাম হামলার যারা পরিকল্পনা করেছে ও যারা তা কার্যকর করেছে, তারা আমাদের জবাব খুব দ্রুত ও স্পষ্টভাবে শুনবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু হামলাকারীদের নয়, যারা এই পরিকল্পনার পেছনে আছে, তাদের দিকেও পৌঁছাবো।’

ভারতের পাশে বিশ্ব
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব মিশ্রী জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে শক্তিশালী সমর্থন ও সংহতির বার্তা এসেছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম দিকেই সমবেদনা জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

চীনের রাষ্ট্রদূত, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারের পক্ষ থেকেও একাত্মতা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, এই হামলা ২০১৯ সালের পুলওয়ামা-বালাকোট সংকটের পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড় নতুন উত্তেজনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ভারতের ৫ পদক্ষেপ
>> ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত থাকবে যতক্ষণ না পাকিস্তান তার সীমানা পেরিয়ে সন্ত্রাসে মদদ দেওয়ার কার্যকলাপ অপরিবর্তনীয় ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে পরিত্যাগ করে।

>> অটারি-ওয়াঘা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যারা বৈধ কাগজপত্রে এই পথে ভারতে প্রবেশ করেছেন তারা আগামী ১ মের পাকিস্তান ফিরে যেতে পারবেন।

>> পাকিস্তানি নাগরিকদের সার্ক ভিসার আওতায় ভারতে প্রবেশের অনুমতি আর থাকবে না। পূর্বে যাদের এই ভিসা দেওয়া হয়েছে, তা বাতিল বলে গণ্য হবে। বর্তমানে যারা এই ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন, তাদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ত্যাগ করতে হবে।

 >> নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানি হাইকমিশনে নিযুক্ত নৌ ও বিমান উপদেষ্টাদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ (অপছন্দের ব্যক্তি) ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে ভারত ছাড়তে হবে। একইভাবে, ভারতের ইসলামাবাদ হাইকমিশন থেকেও ভারতীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা প্রত্যাহার করা হবে। উভয় হাইকমিশন থেকে প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট পাঁচজন সহকারী স্টাফকেও অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে।

>> উভয় হাইকমিশনের মোট জনবল ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০ জনে নামিয়ে আনা হবে। আগামী ১ মের মধ্যে কার্যকর হবে।

ওএফ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন