Logo

আন্তর্জাতিক

উপমহাদেশে উত্তেজনা

ভারতের প্রতিক্রিয়ার জবাব দিতে জরুরি বৈঠকে পাকিস্তান

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৫, ১৬:৩৬

অ
ভারতের প্রতিক্রিয়ার জবাব দিতে জরুরি বৈঠকে পাকিস্তান

ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের পাহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহতের ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নেয় নয়াদিল্লি। এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া কীভাবে জানানো হবে তা নির্ধারণে পাকিস্তানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির (এনএসসি) জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে উপস্থিত রয়েছেন পাকিস্তানের শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, পাহেলগামে ভারতের ‘অন্যের ওপর দোষ চাপানোর জন্য সাজানো হামলা’ পর উদ্ভূত অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ‘ভারতের একতরফা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’

রেডিও পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের ‘অদূরদর্শী, আবেগতাড়িত ও অবাস্তব পানি বিষয়ক পদক্ষেপ’ পর্যালোচনা করবে।

বৈঠকের আগে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছান।

পাকিস্তান এ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটি নিহতদের প্রতি শোক ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে।

এদিকে, ভারত সরকার পাকিস্তানের সরকারিভাবে পরিচালিত এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট ব্লক করেছে। পাশাপাশি নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে।

ভারতের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করা। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এ চুক্তি যুদ্ধ ও বিরোধের মধ্যেও এতদিন বহাল ছিল। এর স্থগিতাদেশ দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভারত দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও কমিয়ে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে। সীমান্তের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট বন্ধ করে দিয়েছে।

পাহেলগামের হামলাকে তারা একটি ‘গুরুতর উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর জবাবে পাকিস্তানের ওপর কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক চাপ প্রয়োগের অঙ্গীকার জানিয়েছে।

ভারতের অধিকৃত কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা পাহেলগামে এই হামলা ঘটেছে, যেখানে প্রতি গ্রীষ্মে হাজারো পর্যটক ভিড় করেন। বন্দুকধারীরা পর্যটকদের ওপর গুলি চালায়, এতে অন্তত ২৬ জন নিহত ও আরও ১৭ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন নেপালি নাগরিক ছাড়া সবাই ভারতীয়। এটি ২০০০ সালের পর অঞ্চলটিতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নামের এক অজ্ঞাত গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিক সাদ আহমাদ ওয়াররাইচকে তলব করেছে ভারত।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সব দলকে নিয়ে একটি বৈঠকের ডাক দিয়েছেন, যেখানে হামলার জবাবে সরকারের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করা হবে।

বুধবার রাতে দুনিয়া টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসাক দার ভারতের প্রতিক্রিয়াকে ‘অপরিপক্ব’ ও ‘তড়িঘড়ি’ বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘ভারত কোনো প্রমাণ দেয়নি। তাদের প্রতিক্রিয়ায় কোনো পরিপক্বতা নেই। তারা ঘটনার পরই অযথা উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করেছে।’

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, ভারত-পাকিস্তানের এই টানাপড়েন ২০১৯ সালের পুলওয়ামা-বালাকোট সংকটের মতো আরও একটি মারাত্মক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।

সিন্ধু পানি চুক্তির স্থগিতাদেশ দীর্ঘমেয়াদী পানি সংকটের জন্ম দিতে পারে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হলে ভবিষ্যতে উত্তেজনা প্রশমনের সুযোগও সীমিত হয়ে যাবে।

বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, এটি ২০১৯ সালের পর ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বে সবচেয়ে গুরুতর সংকট তৈরি করতে পারে। তখন ভারত চুক্তি স্থগিতের হুমকি দিয়েছিল, কিন্তু এবার বাস্তবে তা করেছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে। হামলার পরে ভারতের সরকার বলেছে, একটি ‘প্রকাশ্য ও দৃঢ় জবাব’ দেওয়া হবে।

এই হামলাকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তার হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও সেখানে শান্তি-উন্নয়ন প্রতিষ্ঠার দাবিকে তাদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন, তার বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের পানি যুদ্ধের সমালোচনা
পাকিস্তানের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সরদার আওয়াইস লেঘারি বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে ও পরিণতির তোয়াক্কা না করে পানি চুক্তি স্থগিত করা মানে হচ্ছে পানি যুদ্ধ ঘোষণা করা।’

তিনি বলেন, ‘সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত একটি কাপুরুষোচিত ও বেআইনি পদক্ষেপ। প্রতিটি ফোঁটা আমাদের অধিকার, আমরা তা আইনত, রাজনৈতিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রক্ষা করব।’

পানি সম্পদমন্ত্রী মিয়া মুঈন ওয়াট্টু বলেন, ‘ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করতে পারে না, কারণ এটি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনুমোদনপ্রাপ্ত।’

সাবেক রেলমন্ত্রী খাজা সাদ রফিক বলেন, ‘প্রমাণ ছাড়াই এভাবে পদক্ষেপ নেওয়া দুঃখজনক ও অজ্ঞতা প্রসূত সিদ্ধান্ত।’ 

তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি শুধু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নয়। এটি বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে গঠিত এবং এতে আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি রয়েছে।’

মোদির হুংকার
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাহেলঘামে ভয়াবহ হামলার পর প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, হামলাকারী ও এর পেছনে থাকা সবাইকে শাস্তি দেওয়া হবে।

মঙ্গলবারের হামলার পর আজ (বৃহস্পতিবার) বিহারে এক জনসভায় দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, আমি সারা পৃথিবীকে বলছি, ভারত প্রতিটি সন্ত্রাসী ও তাদের মদতদাতাকে চিহ্নিত করবে, খুঁজে বের করবে ও শাস্তি দেবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত ওদের তাড়া করব।’ 

তবে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। ভাষণের শুরুতে মোদি নিহতদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করেন।

তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলছি—যে বা যারা এই হামলা চালিয়েছে এবং যারা এর পরিকল্পনায় জড়িত, তাদের এমনভাবে শাস্তি দেওয়া হবে, যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।’

‘তারা শাস্তি পাবে—নিশ্চিতভাবেই পাবে। এই সন্ত্রাসীদের হাতে যে সামান্য জমি আছে, সেটাও ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হবে। ১৪০ কোটি ভারতীয়ের ইচ্ছাশক্তি এই সন্ত্রাসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেবে।’

মোদি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সুবিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’

ভাষণের শেষাংশে তিনি ব্যতিক্রমীভাবে ইংরেজিতে কিছু মন্তব্য করেন, যা ছিল মূলত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে।

ভারত ও পাকিস্তানে প্রতিবাদ
ভারত-পাকিস্তান পানি চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ ও লাহোরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগের (পিএমএমএল) সমর্থকেরা।

প্রতিবাদকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘চুক্তি স্থগিত করা নিষ্ঠুরতা ও অপরাধ’। অনেকে এটিকে ‘যুদ্ধের ঘোষণা’ বলেও উল্লেখ করেন ব্যানারে।

অন্যদিকে, আজ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কূটনৈতিক পাড়ায় অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।পাকিস্তানে পিএমএমএল দলের নেতাকর্মীরা ইসলামাবাদ ও লাহোরে বিক্ষোভ করে। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘চুক্তি স্থগিত করা মানে যুদ্ধ ঘোষণা’।

ভারতের নয়াদিল্লিতে পাকিস্তান দূতাবাসের সামনে একদল বিক্ষোভকারী স্লোগান দেয়। পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলতে ধাক্কাধাক্কি করে।

ভারতে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের উপর হামলা
পাহেলগামে হামলার ঘটনায় কাশ্মীর থেকে আসা শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন শহরে হয়রানি ও হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির আহ্বায়ক নাসির খুহামি জানান, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও হিমাচল প্রদেশসহ একাধিক রাজ্যে কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের বাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হিমাচল প্রদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হোস্টেলের দরজা ভেঙে ঢুকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হয়।

খুহামি বলেন, তাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে অপমান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটি শুধুই নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি নির্দিষ্ট অঞ্চল ও পরিচয়ের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত ঘৃণা ও অপমানের একটি পরিকল্পিত অভিযান।’

উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে ২০ জনের মতো কাশ্মীরি শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে বিমানবন্দরের আশ্রয় নিয়েছেন। কারণ, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু রক্ষা দল কাশ্মীরী শিক্ষার্থীদের কঠিন পরিণতির হুমকি দিয়েছে, যদি দ্রুত তারা শহর না ছাড়ে।

‘জোরাল জবাব’ দেবে ভারত : প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং
পাহেলগামে সংঘটিত প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

হামলার পরদিন নয়াদিল্লিতে এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘যারা এই ঘৃণ্য হামলার সঙ্গে জড়িত, তারা খুব দ্রুত আমাদের প্রতিক্রিয়া শুনবে— জোরালো ও স্পষ্টভাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু হামলাকারীদেরই নয়, যারা আমাদের মাটিতে বসে এর নেপথ্যে পরিকল্পনা করেছে, তাদের দিকেও পৌঁছে যাব।’

যদিও সিং কারও নাম উল্লেখ করেননি তবে তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।’

এদিকে, পাহালগামের সংলগ্ন তাংমার্গ এলাকায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে বলে খবরে জানা গেছে। এ ঘটনায় এক ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন।

একটি আলাদা ঘটনায় বুধবার বারামুল্লায় ভারতীয় সেনাবাহিনী দুই ব্যক্তিকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে। সেনাবাহিনীর দাবি, তারা ‘অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল’। তাদের সাথে ‘তীব্র গুলি বিনিময়ের’ পর দুজনকে মৃত পাওয়া যায়।

ওএফ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন