২০ বছর ধরে ঘুমিয়ে আছেন সৌদি রাজপুত্র, কবে ভাঙবে ঘুম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৫, ২১:০৩
ছবি : সংগৃহীত
ছোট বেলায় রূপকথার গল্প নিশ্চই শুনেছেন। কল্পকাহিনিতে দুষ্টু রাক্ষস বা রাক্ষসীর কারসাজিতে বছরের পর বছর ঘুমিয়ে থাকেন রাজকুমার বা রাজকুমারীরা। কিন্তু বাস্তবেও এমন রাজকুমার আছেন যিনি ঘুমিয়ে আছেন দু’দশক ধরে। এক ‘রাক্ষসের’কারণে জীবনের সুন্দর মূহুর্ত থেকে বঞ্চিত হন তিনি।
এই রাজকুমার আর কেও নন; বরং সৌদির যুবরাজ অল-ওয়ালিদ বিন খালেদ বিন তালাল। ২০ বছর ধরে ঘুমিয়েই ৩৬ বছর পূর্ণ কলেন তিনি। বিশ্ব তাকে চেনে ঘুমন্ত রাজপুত্র বা ‘স্লিপিং প্রিন্স’ নামে।
২০০৫ সালে রিয়াদে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন ওয়ালিদ। তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর। ওই দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে যুবরাজ কোমায় চলে যান। সেই সময় লন্ডনের একটি সামরিক কলেজে পড়তেন তিনি। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, মস্তিষ্কে আঘাত লাগার কারণে তিনি কোমায় চলে গেছেন।
যুবরাজ ওয়ালিদ, সৌদি রাজ পরিবারের সদস্য খালিদ বিন তালাল অল সৌদের ছেলে এবং সৌদি ধনকুবের ব্যবসায়ী অলওয়ালিদ বিন তালালের ভাতিজা। প্রিন্স অল-ওয়ালিদ সৌদি রাজপরিবারের সদস্য হলেও বর্তমান বাদশার সঙ্গে সরাসরি উত্তরাধিকারী নন তিনি।
দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। ভেন্টিলেটর এবং ফিডিং টিউবের ওপরই নির্ভরশীল তিনি। বছরের পর বছর ধরে তার অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। ২০১৯ সালে, সীমিত সাড়া দেওয়ার কিছু লক্ষণ দেখা গিয়েছিল রাজপুত্রের মধ্যে। তার মাথা এবং আঙুলগুলি সামান্য নড়েছিল। কিন্তু তার পর থেকে আর বিশেষ কোনো আশার সঞ্চার হয়নি রাজপুত্রের সুস্থতা নিয়ে।
রিয়াদের একটি হাসপাতালে ১১ বছর শুশ্রূষার পর ২০১৬ সালে ওয়ালিদকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। এখন তিনি নিজের বাড়িতেই লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। ওয়ালিদকে দেখভাল করার জন্য জনা দশেক কর্মচারী রাখা হয়েছে সৌদি রাজপরিবারের তরফ থেকে। এর জন্য খরচ হয় কোটি কোটি টাকা।
যুবরাজের বাবা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, কোমা থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ফিরবেন তার আদরের সন্তান। খালিদ মনে করেন, এক দিন ঠিক ‘অলৌকিক’ কোনো ঘটনা ঘটবে এবং তার ছেলে কোমা থেকে বেরিয়ে সুস্থ হয়ে উঠবেন।
বিগত বছরগুলোয় যুবরাজের চিকিৎসায় যুক্ত হয়েছিলেন আমেরিকা ও স্পেনের খ্যাতনামী চিকিৎসকেরা। কিন্তু সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এখনো তার জ্ঞান ফেরানো যায়নি। চিকিৎসকেরা ওয়ালিদকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সব আশা ত্যাগ করেছেন। পরিবারের আশা ও লড়াই করে যাওয়ার অদম্য জেদেই ২০ বছর ধরে প্রাণের স্পন্দন রয়েছে রাজপুত্রের দেহে।
টিএ

