ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বন্দর শাহিদ রাজাইয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৪০ জন নিহত ও এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
শনিবার সকালে শাহিদ রাজাইয়ে বন্দরে এই বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে বহু মানুষ হাসপাতালে গিয়ে রক্তদান করেন। একদিন পরও আগুন জ্বলছে, আর চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে ঘন বিষাক্ত রাসায়নিক ধোঁয়া।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাছাকাছি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ ঘরে থাকার এবং আরও সুরক্ষামূলক পোশাক পরার পরামর্শ দিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, কাছের শহর ইরানি নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি বন্দর আব্বাসের সকল স্কুল ও অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার দেশজুড়ে এক দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। হরমোজগান প্রদেশে অতিরিক্ত দুই দিনের শোক পালন করা হবে।
এ বিস্ফোরণে ৫০ কিলোমিটার দূরের বাসিন্দারাও কম্পন অনুভব করেছেন।
প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বলেন, ‘সরকারের কিছু করণীয় আছে কিনা তা সরেজমিন দেখতে এসেছি।’
এর আগে পেজেশকিয়ান বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘটনাস্থলে পাঠান।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, এ এলাকায় সামরিক জ্বালানি বা সামরিক ব্যবহারের কোনো আমদানি বা রপ্তানি হয়নি।
বন্দরের কাস্টমস অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, বিস্ফোরণের কারণ সম্ভবত বিপজ্জনক ও রাসায়নিক পদার্থের গুদামে লাগা আগুন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এ বিস্ফোরণ ইরানের অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে? কারণ এই বন্দর দিয়ে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি হয়।
শনিবার কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছিল, সাময়িকভাবে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে, কারণ বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
তবে একদিন পরেই কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করে বলেছে, বিস্ফোরণ কেবল বন্দরের একটি অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, পুরো বন্দর নয়।
এদিকে, ক্রেমলিন জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশেষ ফায়ারফাইটিং বিমান ইরানে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনজন চীনা নাগরিক ‘স্থিতিশীল’ অবস্থায় আছেন এবং নতুন করে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, তুরস্ক, জাতিসংঘ ও রাশিয়া বিস্ফোরণের ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন।
বিস্ফোরণের সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ওমানে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করছিলেন, যেখানে দুই পক্ষই কিছু অগ্রগতির কথা জানিয়েছে।
ইরান বলেছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে পরমাণু কর্মসূচিতে কিছু নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে রাজি, তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করবে না। তারা জোর দিয়ে বলেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক উদ্দেশ্যে।
ওএফ

