ইউক্রেন যুদ্ধে সৈন্য পাঠানোর কথা নিশ্চিত করল উত্তর কোরিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৫, ১১:১০
উত্তর কোরিয়া প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে, তারা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে লড়াই করার জন্য সৈন্য পাঠিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা কুরস্ক সীমান্ত অঞ্চল ‘পুরোপুরি মুক্ত’ করতে রাশিয়ান বাহিনীকে সহায়তা করেছে। সৈন্য মোতায়েন দেশটির নেতা কিম জং আন এর নির্দেশেই হয়েছে।
রাশিয়ার চীফ অফ স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভ উত্তর কোরীয় সৈন্যদের ‘বীরত্বের’ প্রশংসা করার পর পিয়ংইয়ংয়ের তরফ থেকে এ স্বীকৃতি আসে।
একইসঙ্গে মস্কোও এ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করল ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা উপস্থিতি।
রাশিয়া দাবি করেছে, তারা কুরস্ক অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে, যদিও ইউক্রেন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ কোরিয়া এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলে আসছিল যে, পিয়ংইয়ং গোপনে ইউক্রেনে সৈন্য পাঠিয়েছে। কেসিএনএ জানিয়েছে, এ সৈন্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় হয়েছে।
কিম জং আনকে উদ্ধৃত করে কেসিএনএ লিখেছে, ‘যারা ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করেছে, তারা সবাই বীর এবং মাতৃভূমির সম্মানের প্রতিনিধি।’
কুরস্ক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া ‘রক্তে প্রমাণিত বন্ধুত্ব’ এর প্রকাশ ঘটিয়েছে বলেও জানানো হয়।
কেসিএনএ অবশ্য কুরস্ক মিশন শেষ হলে সেনাদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কিছু জানায়নি।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, পুতিন ও কিমের মধ্যকার সম্পর্ক গভীরতর হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত অক্টোবরে এ সেনা মোতায়েন করা হয়। এর মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতাও হয়, যেখানে উভয় নেতা পারস্পরিক সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ধারণা, গত তিন মাসে উত্তর কোরিয়ার এক হাজার থেকে এগারো হাজার সেনা ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছে। পাঠানো সৈন্যদের মধ্যে রয়েছে বিশেষ এলিট ইউনিট ‘স্টর্ম কর্পস’, তবে আধুনিক যুদ্ধে তাদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল।
সাবেক ব্রিটিশ সেনা কর্নেল হামিশ ডি ব্রেটন গর্ডন জানিয়েছেন, তাদের প্রশিক্ষণ রাশিয়ান কর্মকর্তারা দিলেও তারা উত্তর কোরীয় সেনাদের যুদ্ধ দক্ষতা বোঝার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছিল।
তবে ইউক্রেনের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল ওলেকসান্দ্র সিরস্কি সতর্ক করেছেন, উত্তর কোরিয়ার এই সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত ১১/১২ হাজার অনুপ্রাণিত ও সোভিয়েত কৌশলে প্রশিক্ষিত সেনা ইউক্রেনীয় যোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে।’
এমজে

