Logo

আন্তর্জাতিক

সিঙ্গাপুরের নির্বাচনে টানা ১৪তম জয় পেল ক্ষমতাসীন দল

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৫, ১০:৪০

অ
সিঙ্গাপুরের নির্বাচনে টানা ১৪তম জয় পেল ক্ষমতাসীন দল

সিঙ্গাপুরের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন লরেন্স ওয়ং /ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেই সিঙ্গাপুরের জাতীয় নির্বাচনে টানা ১৪তম জয় পেয়েছে পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি)। শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পিএপি ৯৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৮৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। অনেক আসনেই বিরোধীদের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে দলটি।

১৯৬৫ সালে সিঙ্গাপুরের স্বাধীনতার আগ থেকেই দেশটি শাসন করে আসছে পিএপি। তবে এবারের নির্বাচন ছিল দলের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, কারণ আগের নির্বাচনে তারা এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছিল।

এবার দলটি ৬৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা ২০২০ সালের নির্বাচনে প্রাপ্ত ৬১ দশমিক ২ শতাংশের চেয়েও বেশি। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো হয়নি, তবুও এই ফলাফলই লরেন্স ওয়ংয়ের নেতৃত্বে দলের প্রথম নির্বাচনে শক্তিশালী জনসমর্থনের বার্তা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা লরেন্স ওয়ং গত বছর সিঙ্গাপুরের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। আর এই জয়ের মাধ্যমে নিজের নেতৃত্বে প্রথমবার নির্বাচনী বৈধতা অর্জন করলেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের স্থলাভিষিক্ত হন, যিনি ছিলেন সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা লি কুয়ান ইউয়ের পুত্র।

ওয়ং এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আপনাদের শক্তিশালী জনসমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা এই আস্থার মর্যাদা রাখব।’

ওয়ংয়ের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো সিঙ্গাপুরের উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় ও গৃহ সংকট। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর সিঙ্গাপুর এখন মন্দার আশঙ্কা ও কর্মসংস্থান হ্রাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ধাক্কা লাগে।

বিরোধীদের ভরাডুবি

বিরোধী দল ও তাদের সমর্থকরা আশা করেছিলেন, তরুণ ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের ইচ্ছা দলগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছু দেখা যায়নি। পিএপি ৩৩টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ১৮টিতে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোট পেয়েছে।

পিএপি এবার সব আসনে প্রার্থী দিলেও, প্রধান বিরোধী দল ওয়ার্কার্স পার্টি (ডব্লিউপি) মাত্র ২৬টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ১০টি আসন জয় পায়। পিএপির বাইরে একমাত্র কার্যকর শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে দলটি।

সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মুস্তাফা ইজ্জুদ্দিন বলেন, ‘ভোটাররা স্থিতিশীলতা, ধারাবাহিকতা ও নিশ্চয়তার পক্ষে রায় দিয়েছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ংকে শক্তিশালী ম্যান্ডেট দিয়েছেন।’

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো জোশুয়া কারলানজিক বলেন, ‘এই নির্বাচন ছিল এক ধরনের নিরাপত্তার খোঁজে পরিচিত আশ্রয়ে ফেরা। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় মানুষ অজানা দল বা নেতার পরিবর্তে পরিচিত ও পরীক্ষিত শক্তির দিকেই ঝুঁকেছে।’

তিনি বলেন, ‘যদিও একই সমস্যা রয়ে গেছে, যেমন —ব্যয়বহুল জীবন ও বাসা-বাড়ির সংকট। তবে জনগণ এখনই পরিবর্তন চায়নি।’

ওএফ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন