ইসরায়েলি অবরোধ
গাজায় অনাহারে প্রাণ গেল ৫৭ ফিলিস্তিনির
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৫, ১১:৩৫
ইসরায়েলের ধারাবাহিক অবরোধের কারণে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৭ ফিলিস্তিনি অনাহারে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতির বরাতে তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানায়, ‘অবরোধ ও খাদ্য নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকায় অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫৭ জনে পৌঁছেছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গাজা সীমান্ত টানা ৬৩ দিন ধরে বন্ধ থাকায় খাদ্য, শিশুখাদ্য, পুষ্টি উপকরণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রবেশ করতে পারছে না।’
শনিবার আনাদোলুকে একটি চিকিৎসা সূত্র জানায়, গাজা সিটির আল-রান্তিসি শিশু হাসপাতালে অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হয়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গাজার মিডিয়া অফিস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘খাদ্যকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে’ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে বলেছে, ‘গাজার ২৪ লাখেরও বেশি মানুষকে দমবন্ধ করে রাখার জন্য ইসরায়েল সীমান্ত বন্ধ করে রেখেছে।’
প্রশাসন জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অনাহারে যারা মারা গেছেন তাদের অধিকাংশই শিশু, বৃদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা রোগী। গাজায় ইসরায়েলের চলমান গণহত্যার মুখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
অবিলম্বে সব সীমান্ত খুলে খাদ্য ও ওষুধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়, মানবিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনি ও জাতিসংঘ কর্মকর্তারা এর আগেও বারবার গাজায় দ্রুত অবনতি হওয়া মানবিক সংকট নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। ইসরায়েল চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরু থেকেই গাজার সীমান্তগুলো বন্ধ করে রেখেছে।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৫২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গত নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
এছাড়া, গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলার মুখোমুখিও হয়েছে।
ওএফ

