বিদেশি সিনেমায় ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৫, ১০:০৮
যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত নয় এমন সব সিনেমার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ঘোষণা ট্রাম্পের /ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত নয়—এমন সব সিনেমার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি জানিয়েছেন, এ ধরনের শুল্ক আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন চলচ্চিত্র শিল্প ‘দ্রুত মৃত্যুর পথে’ হাঁটছে। এর জন্য তিনি বিদেশি সরকারের ‘সমন্বিত প্রচেষ্টাকে’ দায়ী করেছেন।
তার ভাষায়, অন্যান্য দেশ তাদের সিনেমা নির্মাতা ও স্টুডিওগুলোকে নানা ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছে, যা তিনি ‘জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি’ হিসেবে দেখছেন।
ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা আমেরিকায় তৈরি সিনেমাকে আবারও মহান করে তুলতে চাই।’
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করে চলেছেন ট্রাম্প। তার যুক্তি, এসব শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াবে।
যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্যের দাম বেড়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
শপথ নেওয়ার আগেই ট্রাম্প তিন হলিউড তারকা—জন ভইট, মেল গিবসন ও সিলভেস্টার স্ট্যালোনকে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ করেন। তাদের দায়িত্ব ছিল হলিউডের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তুলে ধরা।
ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘হলিউড একটি মহান কিন্তু সমস্যাসংকুল জায়গা। আমার দূতরা এর গৌরব ফিরিয়ে আনার কাজ করবেন। হলিউড হবে বৃহৎ, উন্নত ও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।’
চলচ্চিত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রডপ্রো জানিয়েছে, বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎপাদন কেন্দ্র। তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সিনেমা তৈরিতে খরচ করেছে প্রায় ১৪.৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।
এদিকে একই সময়ে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে এই খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে।
গত এপ্রিল মাসে চীন ঘোষণা দেয়, দেশটিতে মার্কিন সিনেমার প্রবেশের জন্য নির্ধারিত কোটা তারা কমিয়ে দেবে।
চীনের সিনেমা প্রশাসন বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক অপব্যবহারের কারণে আমেরিকান সিনেমার দর্শক আরও কমে যাবে। আমরা বাজারের নীতি অনুসরণ করব, দর্শকের পছন্দকে সম্মান করব এবং ধীরে ধীরে আমেরিকান চলচ্চিত্র আমদানি কমিয়ে দেব।’
চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ট্রাম্প ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছেন, যা কিছু ক্ষেত্রে ২৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে তার প্রশাসন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শতাংশ শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে জুলাই পর্যন্ত।
রোববার ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তিনি চীনসহ বহু দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কথা বলছেন। তবে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই।
চলতি সপ্তাহে কোনো বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা আসবে কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘হতে পারে।’ তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এর আগে এক এনবিসি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ‘ভবিষ্যতে চীনের ওপর চাপানো শুল্ক কিছুটা কমানো হতে পারে। এক পর্যায়ে এটি কমাতে হবে, কারণ তা না হলে তাদের সঙ্গে ব্যবসা করা যাবে না। আর চীন ব্যবসা করতে চায়।’
বিবিসি/ওএফ

