পাকিস্তানে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দুই মসজিদেই নিহত ১৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৫, ১৪:৩৫
ভারতের হামলায় পাকিস্তানের মুজফ্ফরাবাদের বিলাল মসজিদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত | ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বেশ কয়েকটি স্থানে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার দিবাগত (৭ মে) রাতে এসব হামলা চালানো হয়।
মধ্যরাতের এই হামলায় পাঞ্জাবের 'দুটি মসজিদকেও লক্ষ্যবস্তু করে ভারত। এতে ১৬ জন নিহত হয়েছেন।'
বুধবার (৭ মে) সকালে এক বিবৃতিতে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমদ শরীফ চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ৭ মে রাতের আঁধারে ভারত পাকিস্তানের ৬টি স্থানে ‘বেআইনি ও কাপুরুষোচিত’ বিমান হামলা চালায়। এসব হামলায় মোট ২৬ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪৬ জন।
তিনি জানান, সর্বাধিক প্রাণহানি হয়েছে পাঞ্জাবের আহমদপুর শরকিয়ায়। সেখানে একটি মসজিদে চালানো হামলায় ১৩ জন মুসল্লি নিহত হয়েছেন। পাঞ্জাবেরই মুরীদকেতে আরেকটি মসজিদে বোমা বর্ষণে মারা গেছেন ৩ জন। আজাদ কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৩ জন।
আইএসপিআর ডিজি বলেন, সিয়ালকোট ও শকর্গড় অঞ্চলেও হামলা হয়েছে, তবে সেখানে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, মসজিদসহ ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্য করে হামলা ভারতীয় সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতার প্রতিফলন।
পাকিস্তানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইতোমধ্যে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ৫টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানায় আইএসপিআর। এসবের মধ্যে রয়েছে ৩টি রাফাল, ১টি মিগ ও ১টি কমব্যাট ড্রোন। ভূপাতিত যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে কিছু ভেঙে পড়েছে ভারত নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডেই।
জেনারেল আহমদ শরীফ বলেন, ‘ভারত ভুল করেছে, আর তার সংশোধন পাকিস্তান করবে। পাকিস্তান কখনো আগ্রাসন শুরু করে না, তবে নিজের সীমান্ত ও নাগরিকদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ জবাব দিতে জানে।’
তিনি আরও জানান, ভারত গতরাত থেকে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর বিনা উসকানিতে গোলাবর্ষণ চালাচ্ছে। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিক ও উপযুক্ত জবাব দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তানের পানিসম্পদ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভারত যে হামলা চালিয়েছে, তাকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও মারাত্মক জলসম্পদ যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইএসপিআর প্রধান।
তিনি বলেন, ‘ভারত যদি পাকিস্তানের পানিসম্পদের ওপর হামলা চালিয়ে জলসম্পদকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তবে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।’
সূত্র : ডেইলি জং

