মার্কিন-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের নতুন সূচনা : ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৫, ১৬:৪৪
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প /ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন ও চীনা কর্মকর্তাদের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্কে ‘নতুন সূচনা’ হয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই বৈঠককে ‘খুবই ভালো’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে পরিবর্তনের বিষয়ে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ কিন্তু গঠনমূলক’ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যযুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে। এর জবাবে চীনও কিছু মার্কিন পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক বসায়।
এই টানাপোড়েনের কয়েক মাস পর এবার প্রথমবারের মতো দুই দেশ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বসছে আলোচনায়। বছরের শুরুতে ট্রাম্প চীনের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পর এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
এই আলোচনার বিস্তারিত তেমন কিছু জানা না গেলেও ট্রাম্পের পোস্টে আশাবাদের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বৈঠক চলবে রোববার পর্যন্ত। এতে অংশ নিচ্ছেন চীনের ভাইস-প্রিমিয়ার হে লিফেং ও মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র— উভয়ের মঙ্গলেই চাই, চীনের বাজার যেন মার্কিন ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত হয়। বিশাল অগ্রগতি হয়েছে!!!’
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট শুক্রবার বলেন, ওয়াশিংটন একতরফাভাবে কোনো শুল্ক হ্রাস করবে না, চীনকেও ছাড় দিতে হবে।
বৈঠকের আগে দুই পক্ষই নানা রকম সতর্কবার্তা দেয়। বেইজিং জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই শুল্ক কমাতে হবে। আর মার্কিন পক্ষ বলেছে, আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ‘উত্তেজনা হ্রাস’ –এটি কোনো বড় বাণিজ্য চুক্তি নয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৈশ্বিক প্রত্যাশা, জাতীয় স্বার্থ ও মার্কিন ব্যবসায়ীদের অনুরোধ বিবেচনায় রেখেই বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে।
গত মাসে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন শুল্কের কারণে চীনা রপ্তানিকারকরা বিপাকে পড়েছে। ‘সোরবো টেকনোলজি’ নামের একটি কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের অর্ধেক পণ্য সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে যায়, কিন্তু এখন সেগুলো চীনের গুদামে পড়ে আছে।
অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে— বার্ষিক হারে ০.৩ শতাংশ হারে উৎপাদন কমে গেছে। এ সময় দেশটির ব্যবসায়ীরা শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই পণ্য আমদানির জন্য হুড়োহুড়ি করে।
গত মাসে ট্রাম্প ‘লিবারেশন ডে’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আমদানির ওপর একটি সার্বজনীন শুল্ক হার আরোপ করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার— যাদের ট্রাম্প প্রশাসন ‘সবচেয়ে বাজে শর্তদাতা’ বলেছে— বাড়তি শুল্কের আওতায় পড়ে। এই তালিকায় রয়েছে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ট্রাম্প বলেন, ‘এই শুল্ক বহু বছরের অবিচারের জবাব।’
তিনি আরও ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক এবং সব গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
তবে গত সপ্তাহে ঘোষণা আসে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যাতে ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে— সর্বোচ্চ ১ লাখ ব্রিটিশ গাড়ির জন্য। এটি যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের গত বছরের গাড়ি রপ্তানির সমান।
উল্লেখ্য, গাড়িই যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য, যার বাজারমূল্য গত বছর ছিল প্রায় ৯ বিলিয়ন পাউন্ড।
ওএফ

