নবনির্বাচিত পোপ লিও চতুর্দশ /ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর প্রতি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন সদ্য নির্বাচিত পোপ লিও চতুর্দশ। ভ্যাটিকানে রোববারের প্রথম আশীর্বাদ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের স্থায়ী শান্তি, গাজায় যুদ্ধবিরতি ও ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শনিবার স্বাক্ষরিত চুক্তিকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তিনি ভক্তদের সঙ্গে ভার্জিন মেরির সম্মানে রেজিনা চেইলি প্রার্থনাও করেন।
শনিবার পোপ লিও রোমের বাইরে সান্তা মারিয়া ম্যাজোরে গির্জায় প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের সমাধির সামনে প্রার্থনায় অংশ নেন। আগামী ১৮ মে সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে পোপ হিসেবে অভিষিক্ত করা হবে।
গত বৃহস্পতিবার ভ্যাটিকান সিটিতে দুই দিনের গোপন নির্বাচনী সভা (কনক্লেভ) শেষে তাকে ক্যাথলিক চার্চের ২৬৭তম পোপ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। পোপ লিও বর্তমানে বিশ্বের ১৪০ কোটির বেশি ক্যাথলিক বিশ্বাসীর ধর্মীয় নেতা।
৬৯ বছর বয়সী লিও চতুর্দশ, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে রবার্ট ফ্রান্সিস প্রেভোস্ট নামে জন্মগ্রহণ করেন। বহু বছর পেরুতে ধর্মপ্রচারক হিসেবে কাজ করেছেন ও পরে সেখানেই আর্চবিশপ হন। তার পেরুর নাগরিকত্বও রয়েছে। যদিও তিনি মার্কিন নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন। ভ্যাটিকান তাকে আমেরিকা মহাদেশ থেকে দ্বিতীয় পোপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আর্জেন্টিনার পোপ ফ্রান্সিস ছিলেন প্রথম।
শুক্রবার তিনি সিস্টিন চ্যাপেলে প্রথমবার পোপ হিসেবে পবিত্র মেস পালন করেন ও শনিবার কার্ডিনালদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।
পোপ লিও বলেন, তিনি তার নাম বেছে নিয়েছেন ১৯ শতকের পোপ লিওর সম্মানে, যিনি সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগে মানুষের মর্যাদা ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে চার্চের ভূমিকা আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আগামী রোববার অভিষেক অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে ভাষণ দেবেন।
নিজের প্রথম বক্তব্যে পোপ লিও বলেন, ‘আমি চাই, আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ চার্চ হিসেবে একসঙ্গে হাঁটি, শান্তি ও ন্যায়ের সন্ধানে।’
ওএফ

